12 January, 2019

শিশির কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় · ৹৹৹৹৹ মুক্তির স্বপ্নের দেশভেদ নেই ৹৹৹৹

এই প্রথম অন্য কারো লেখা আমার ব্লগে কপি - পেস্ট করলাম
 
3 hrs
 
৹৹৹৹৹ মুক্তির স্বপ্নের দেশভেদ নেই ৹৹৹৹

আমার প্রোফাইলে রাইফেল হাতে যে তরুণীর ছবি আছে তার নাম তিতিকা। তিন মাস আগে ৯০ বছর বয়েসে তিনি মারা গেলেন। গ্রীসের ফ্যাসিবাদবিরোধী রেসিস্ট্যান্সে তিনি ১৭ বছর বয়েসে যোগ দেন। গোপন আণ্ডারগ্রাউণ্ডে বসে কবিতায় লেখেন –

‘time has come for women,
to plunge into battle,
to fight bravely,
to think of nothing else,
not mother or house,
not husband or children,
the cause is but one,
liberty or death’

মানুষের মুক্তির স্বপ্ন যারা দেখেন তাদের সবাইকেই বোধহয় নিজের সুখভোগ ছাড়তে হয়। বিবেকানন্দর লেখা পড়লে দেখা যায় উনি যতটা ধর্ম নিয়ে চিন্তিত, তার থেকে এক শো গুণ বেশী চিন্তিত পরাধীন দেশবাসীর কষ্ট নিয়ে, কিভাবে উৎপীড়িত নিম্নবর্গকে মুক্তির দিশা দেখানো যায়, এই চিন্তা তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে।

বিবেকানন্দের জন্ম ১২ই জানুয়ারী, ১৮৬৩ সালে। মৃত্যু ১৯০২ সালে। তাঁর মৃত্যুর ৩২ বছর পর ১৯৩৪এ এই দিনেই ফাঁসি হয় মাস্টারদা সূর্য সেনের, তিনিও মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখে আত্মসুখ বিসর্জন দিয়েছিলেন। বিবেকানন্দ ও মাস্টারদার কাহিনী অল্প বিস্তর সবারই জানা। কিন্তু বিবেকানন্দর মৃত্যুর বছরেই রাশিয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যেটা অনেকের জানা নেই। সেই ঘটনাটির কথা লিখলে বোঝা যাবে মানুষের মুক্তির স্বপ্ন কোন বিশেষ দেশে বিশেষ সময়ে বাঁধা থাকে না, এ স্বপ্ন সীমানা পেরিয়ে কালোত্তীর্ণ আন্তর্জাতিক, বিবেকানন্দ থেকে মাস্টারদা – তিতিকা – সূর্যসেন একই সূতোয় বাঁধা, সেখানেই বাঁধা ১৯০২এর রাশিয়ার ঘটনা।

আজকের সকালের পোস্টেই বলেছি আমার জীবনে বিবেকানন্দের অবদান সবকিছুকে পরীক্ষা করে নেয়া, অন্ধ বিশ্বাসে নেতার কথায় ‘লাল সেলাম’, ‘বন্দে মাতরম্’ অথবা ‘ভারতমাতা কী জয়’ কোনটাই না বলা। বিবেক নিজেও গুরুবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না, রামকৃষ্ণকেও পরীক্ষা করে তারপর শিষ্যত্ব নিয়েছিলেন। বিবেককে হিন্দুধর্মের প্রবক্তা অথবা কম্যুনিস্ট করে দেওয়ার অনেক অপচেষ্টা হয়, তিনি কোনটাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন মানবদরদী এক বৈদিক সাম্যবাদী। বেদের সেই পর্যায়ে বর্ণভেদ, জাতিভেদ ছিল না। মহিলাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল, স্বামী যাজ্ঞ্যবল্কের সাথে মৈত্রেয়ীর দীর্ঘ তর্কযুদ্ধই সেটা প্রমাণ করে। একবার মধ্যপ্রদেশের একদল গো-রক্ষক স্বামীজির কাছে আসেন তাঁকে নিমন্ত্রণ করতে। তিনি তাদের প্রশ্ন করেন মধ্য প্রদেশে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছে সেটার ব্যাপারে ওরা কি করছেন। উত্তরে তারা বলেন ওরা শুধু গোমাতার রক্ষা নিয়ে কাজ করেন। স্বামীজি বলেন, ‘সে তো বুঝতেই পারছি, নয়ত এমন সন্তান কোথা থেকে হবে বলুন ?’

বিবেকানন্দ মার্ক্সের থেকে বয়েসে ৪৫ বছরের ছোট। তাঁর জন্মের আগেই প্যারী কম্যুউনের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ হয়ে গিয়েছে, কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টোও প্রকাশিত। তাঁর মত মননশীল ব্যক্তিত্ব এইসব ঘটনা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না এটা ভাবাই যায় না। কিন্তু তাঁর লেখায় তিনি মার্ক্সবাদে আকর্ষিত হয়েছিলেন এরকম কোন ইঙ্গিত নেই। মার্ক্স বলেছিলেন শিল্পোন্নত ইংলণ্ডে প্রথম বিপ্লব হবে, স্বামীজি বলেন রাশিয়াতে, এবং তাঁর কথাই সত্যি হয়। সুতরাং তিনি যে রাশিয়ার মানুষকে নিয়েও চিন্তা করতেন এটা বোঝা যায়। অর্থাৎ মার্ক্সীয় দর্শনের প্রভাবে না এসেও তিনি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন, কোন বাধা হয় নি।

মাস্টারদা সূর্য সেনও সেই অর্থে মার্ক্সবাদী ছিলেন না, কিন্তু পরাধীন দেশবাসীর মুক্তির স্বপ্ন দেখেন। অমানুষিক অত্যাচারে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়বার পর তার সংজ্ঞাহীন দেহকেই ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়, প্রাণহীন দেহ ছুঁড়ে ফেলা হয় সমুদ্রে।

বিবেকানন্দের মৃত্যুবর্ষে, ১৯০২ সালের ৭ই মার্চ রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের বাটুম শহরে তিন শো শ্রমিক ধর্মঘট করবার অপরাধে গ্রেপ্তার হলে ৯ই মার্চ এক বিপ্লবীর নেতৃত্বে লাল পতাকা হাতে শ্রমিক মিছিল জেলখানার দিকে এগিয়ে যায় কমরেডদের মুক্তির জন্য। পুলিশের গুলীতে মৃত্যু হয় ১৫ জনের।

১২ই মার্চ ওই শহীদদের সমাধিস্থ করা হয় বৈপ্লবিক মর্যাদায় এবং ওই নেতার লেখা ইস্তাহারে লেখা ছিল –

যারা সত্যের জন্য প্রাণ দিয়েছো তাদের শ্রদ্ধা জানাই,
যে মায়ের স্তন্যে তোমরা পালিত, সেই মায়েদের প্রণাম জানাই।
শহিদের কাঁটার মুকুট যে পড়েছে,
যারা মরণের মুহূর্তেও জীবনের বাণী দিয়ে গিয়েছে,
তাদর স্মৃতি আছে আমাদের সঙ্গে।
তারা আমাদের কানে কানে বলছে –
‘আমাদের উপর অত্যাচারের প্রতিশোধ নাও’।

আকৈশোর মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখা সেই রাশিয়ান বিপ্লবী ১৭ বছর বয়সে ‘সোসেলো’ ছদ্মনামে ‘আইবেরিয়া’ পত্রিকায় একটি কবিতা লেখেন –

শ্রমভারে যার মেরুদণ্ড ভেঙে ভেঙে গেছে,
কাল অবধি যে আতঙ্ক ভরে হাঁটু গেড়েছিলো,
সে আবার উঠবে পর্বতের উঁচুতে,
আশার ডানা মেলে সে উঠবে সবার উপরে।

এই রাশিয়ান যুবকটি ১৯০৫ সালের ৫ই জানুয়ারী কঠিন ঠাণ্ডার মধ্যে সাইবেরিয়ার নির্বাসন থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এর জন্ম ১৮৬৮ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রাশিয়ার তিফলীস প্রদেশের গোরী শহরে এক দরিদ্র চর্মকারের ঘরে। পুরো নাম জোশেফ ভিসারিনোভিচ জুগাশভিলি, যিনি তাঁর ছদ্মনাম স্তালিন নামেই পরিচিত, রাশিয়ান ভাষায় স্তালিন মানে ইস্পাত।

রাশিয়ান বিপ্লবীর গল্পটি আমি শুনি আমার পিতামহের মুখে। তিনি তেভাগায় লড়েছেন, পরে আজীবন কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। বাল্যকালে খুব ভোরে তিনি আমায় নিয়ে যেতেন তিস্তাপারে, পূবদিকে মুখ করে বলাতেন, - ‘আত্মনাম্ ঋদ্ধি, জগৎ হিতায় চ’, শুধু নিজের বৃদ্ধি ঘটালেই হবে না, জগতের অন্যদের কথাও ভাবতে হবে। যেদিন সঙ্গে মা থাকতেন, গাইতেন –

জলে স্থলে তব আছে আহ্বান, আহ্বান লোকালয়ে,
চিরদিন তুই গাহিবি যে গান, সুখে দুখে লাজে ভয়ে,
ফুল পল্লব নদী নির্ঝর, সুরে সুরে তোর মিলাইবে স্বর,
দিক দিকে তোর স্পন্দিত হবে আলোক অন্ধকার,
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার….

তখন বুঝিনি, এখন শেষবেলায় বুঝি, মানুষের মুক্তির স্বপ্ন তিস্তাপারে রবীন্দ্রনাথের সুরে মিলিয়ে দিত তিতিকার গ্রীস, বিবেক আর মাস্টারদার ভারতবর্ষ এবং স্তালিনের রাশিয়াকে। মুক্তির স্বপ্নের কোন ভৌগোলিক সীমা হয় না, সময়ের বাঁধনে সে বাঁধা পড়ে না। ১২ই জানুয়ারীতে আমার এসব কথাই মনে পড়ে বন্ধুরা।

08 January, 2019

বিপ্লব না এলে।


"বিশ্বাস বুকের ভিতর না থাকলে
স্বপ্ন দেখা যায় না
স্বপ্ন না দেখলে
লড়াই করা যায় না
লড়াই না করলে
বিপ্লব আসে না
বিপ্লব না এলে
সমাজ সুন্দর হয় না।
তাই বিপ্লবীরা স্বপ্ন দেখে।"

প্রতিটি মানুষের জীবনে পাওয়া - না পাওয়া, দুঃখ - আনন্দ মিলেমিশে থাকে। তারই নাম জীবন। আজকের দিনটা আমাদের অনেকের জীবনে এক পরম পাওয়ার দিন, দারুণ আনন্দের দিন কারণ আজকের দিনটা হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বকে - যে বন্ধুত্ব মানুষের প্রথম বন্ধুত্ব, সেই ছোটবেলার বন্ধুত্বকে খুঁজে পাওয়ার দিন।
ছোটবেলার বন্ধুত্বে কোন মালিন্য থাকে না, কোন চাওয়া - পাওয়ার ক্ষেত্র থাকে না, সে তো এক হাসি - খেলার দিন। ১৯৭৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর এইরকমই কিছু ছোট্ট মানুষ একে অন্যের সাথে শেষ বার মিলেছিল, তারপর সময়ের তাগিদে, জীবনের চাহিদায় ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন দিকে। কারো কারো মধ্যে পারস্পরিক, যোগাযোগ থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই ছিল সাময়িক। গত বছরের এই দিনটায় আমরা আবার মিলিত হয়েছিলাম এক সাথে। আমাদের কাছে সত্যিই এই দিনটা একটা আলাদা মাধুর্য নিয়ে এসেছিল।
সলতে পাকানোর কাজটা শুরু করেছিল ৩ জন, পার্থ, বিমান এবং শ্রবণা। কোন একদিন হঠাৎ করেই পার্থ আর বিমানের মধ্যে কোন এক ব্যাংকে দেখা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই ফোন নম্বর আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে যোগাযোগ শুরু হয়। ওদের মাথাতেই প্রথম এই চিন্তা আসে, পুরানো বন্ধুদের সাথে আবার যদি নতুন করে যোগাযোগ করা যায় তাহলে কেমন হয়। ওরা দুজনে কাজে নেমে পড়ে। নানা রকম সূত্রের মধ্যে থেকে ফোন নাম্বার যোগাড় করার চেষ্টা চলতে থাকে। পার্থর সাথে আমার তার আগে দু এক দিন দেখা হয়েছিল, ফলে ওর কাছে আমার নাম্বার ছিল। কোন ভাবে ওদের কাছে শ্রবণার নাম্বার আসে। ব্যস্‌! দুই পাগল ছিল, জুটে গেল এক পাগলী। ৩ পাগলে মিলে খুঁজে বেড়াতে লাগল হারানো রতন। ওদের পাগল - পাগলী বললাম কারণ আজকের এই স্বার্থপর সময়ে নিজেদের কাজের ফাঁকেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খোঁজার চেষ্টা পাগলামো ছাড়া আর কি! আজকের দিনে ভালোবাসা শব্দটাই তো এক পাগলামো।
এক সন্ধ্যায় আমার কাছে পার্থর ফোন, "একজন তোর সাথে কথা বলবে।" শ্রবণার গলা ভোলার কথা নয়, ভুলিইও নি। ওর গলায় এমনই একটা উদার মনের সন্ধান পাওয়া যেত, যাকে বড় আপন বন্ধু বলে মনে হত। তাছাড়া কলেজ এবং চাকরী জীবনের প্রথম দিকে দু এক বার ওদের বাড়িতেও গেছিলাম। তখনও মানুষটা ছোটবেলার শ্রবণাই ছিল। ওর কাছে জানলাম, যে একটা হোয়াটস্‌ অ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে ছোটবেলার বন্ধুদের নিয়ে, নাম দেওয়া হয়েছে "বিবেক ভারতী, ১৯৭৮"। যদিও হোয়াটস্‌ অ্যাপ নামক বস্তুটিকে আমি পছন্দই করি না, তবুও পুরানো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না আবার একটু ভয় ও লাগছিল। জীবনে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী অসভ্য আচরণ এবং আঘাত পেয়েছি তাই ঝট করে কাউকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। তবে যেহেতু বিবেক ভারতী নামটা চিরকালই আমার অত্যন্ত দুর্বলতার জায়গা, শ্রদ্ধার এবং ভালোবাসার জায়গা কারণ আমার শিক্ষা জীবন এবং কর্ম জীবন শুরু হয়েছিল "বিবেক ভারতী শিশু শিক্ষা সদন" এ । এখনও স্কুলের সাথে আমার মানসিক যোগাযোগ আছে, কলকাতায় যখন ছিলাম, সরস্বতী পুজো এবং স্পোর্টসের দিন স্কুলে যাই নি, এমন হয়েছে বলে মনে করতে পারি না। যাই হোক, যোগাযোগ শুরু হল এবং বাড়তে থাকল।
এবার একদিন প্রস্তাব এল সকলে একদিন বসে আড্ডা মারলে কেমন হয়? গত বছর এই দিনটা শনিবার ছিল, ঠিক হল এইদিনের পার্থর ফার্ন রোডের ফ্ল্যাটে দেখা হবে। এর মধ্যে একদিন পোদ্দার এবং শুভঙ্করের সাথে আমাদের দুজনের কথা হয়েছে, কথা হয়েছে বিমানের সাথেও। ঠিক হল, গাড়ির ব্যবস্থা করবে বিমান। ও আর পার্থ, পোদ্দার আর শুভঙ্করকে নিয়ে আমাদের তুলে নেবে, তারপর সোমা উঠবে তালতলা মোড় থেকে, শ্রবণা ঘোষ পাড়া এবং রিন্টু উঠবে রুবি থেকে। জানলাম মলি নিজের গাড়িতে অদিতিকে নিয়ে চলে আসবে, বাকি কয়েকজন নিজেরা আসবে।
এল সেই দিন। তার আগে থেকেই আমরা দুজন বেশ উত্তেজিত। কতদিন পরে দেখা হবে? কে বলে কতদিন পরে? কে বলে ৪০ বছর পরে দেখা হল? পোদ্দার (আসলে আমাদের দুই পার্থ – একজন সেনগুপ্ত অন্যজন পোদ্দার, নাম ছোট করা আমাদের স্বভাব, তাই একজন হল পার্থ আর অন্যজন পোদ্দার!) আর শুভ হেঁটেই চলে এসেছে। যখন দেখা হল, যে ভাবে আমরা একে অন্যকে সম্বোধন করলাম, জড়িয়ে ধরলাম, মনে হল আমাদের মধ্যে কোন বিচ্ছেদ হয়ই নি। এক এক করে এল সকলে, প্রতিবারই হই হই আওয়াজ! শ্রবণা যখন উঠল তখনই দেখা গেল, ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই / ছোট সে তরী। তখনও রিন্টুর ওঠা বাকি। আসলে আমরা সকলেই তো মোটামুটি ভালোই আছি। ড্রাইভারের পাশে আমি (সেখানে অন্য কাউকে বসানোর কথা চিন্তা করাও চরম উন্মাদের কাজ) তার পিছনে মাঝের সীটে শ্রবণা, সোমা সুরিতা। পিছনের ৪ টে সীটে পোদ্দার, শুভ আর বিমান। এর মধ্যে অন্য কেউ ওঠা মানে বনগাঁ লোক্যাল বলবে আমি ভালো আছি। রুবি মোড়ে রিন্টুকে দেখার পর! উফফ্‌! সে কি অভিজ্ঞতা! আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশী সমস্যা হচ্ছিল ড্রাইভার ভাইটির। একে তো আমাদের অমায়িক গলা, বিশেষত আমি আর শ্রবণা। সুরিতা আর শুভর গলা মোটামুটি সভ্য – ভদ্র কিন্ত তাতেও তো মনে হচ্ছিল সুভাষ দত্ত থাকলে বলতেন “৯০ ডেসিবেলের অনেক উপরে, এখুনি গলায় সাইলেন্সার, না হলে মুখে সেলোটেপ লাগাতে হবে।“ তারপর এই সব চেহারা, গাড়ির টায়ার আস্ত থাকবে তো?
এবার ফার্ন রোড! প্রায় আমাদের সাথে সাথেই এসে গেল অদিতি আর মলি! এরপর আগে পিছে এল দুই আশিস, দেবাশিস, গৌতম, দেবযানী আর দীপক। কারোর চোখই এবার আর শুকনো থাকল না – সকলের চোখে আনন্দাশ্রু । তার পরের সময়ের কথা বোধ হয় আমরা কেউ লিখে বোঝাতে পারব না, যারা ওখানে ছিল তারা কেউই বুঝতে পারল না, সময় কোথা দিয়ে কিভাবে কেটে গেল। একটা কথা বললেই মনে হয় যথেষ্ট হবে, মলি আর অদিতি বলেছিল, ৫ টা নাগাদ বার হয়ে যাবে, ওরা বার হল আমাদের সকলের সাথেই, ঘড়ির কাঁটায় তখন ৭ টা পার হয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে দিব্যেন্দু সেই সময় সুদূর সুরাটে, ওর সাথেও কথা হল ভিডিও কলে। সকলের অনুরোধে মলি ধরল “পুরানো সেই দিনের কথা”, আমরা হারিয়ে গেলাম।
এ মিলন মেলার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, এ তো “হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব”। তারপর আরও অনেক বার মিলেছি, আরও অনেকে যোগ দিয়েছে, সময় করতে না পারার জন্য দু একজন চলেও গেছে, তবু প্রথম বারের এ মিলন মেলার স্মৃতিতে আমরা কয়েকজন আজও আচ্ছন্ন! এ লেখা শেষ হয় না কারণ এ লেখা গত এক বছর ধরে চলছে, চলবে আরও আরও অনেক দিন। তবু কলম তো এক সময় বন্ধ করতেই হয়, তাই বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। শেষ করি আমাদের প্রিয় শিবাণী মিসের লেখা ও সুর করা সেই গানটি দিয়ে, যে গান জড়িয়ে আছে আমাদের সকলের প্রাণে, হয়তো বা বিবেক ভারতী শিশু শিক্ষা সদনের ছাত্র – ছাত্রীরা কোথাও স্কুল থেকে একসাথে বেড়াতে গেলে আজও সেই গানটি গায় –
“আমরা চলেছি বিবেক ভারতী
আনন্দ গান গেয়ে,
চলেছি আমরা সব ভাই বোন
সকলকে সাথে নিয়ে।
লেখাপড়া আজ নাই
আমরা বেড়াতে যাই,
বছরে একটা দিন ভাই
আসে সুন্দর হয়ে
আমরা চলেছি তাই,
আনন্দ গান গেয়ে।“
সঙ্গের ছবি দুটির প্রথম টি গত বছরের মিলন মেলার দিন অদিতির ছেলের তোলা এবং দ্বিতীয়টি দ্বীপান্বিতার কাছ থেকে পাওয়া।

একটি বিচ্ছিরি লেখা।

স্বচ্ছ ভারত! সব বাড়িতে শৌচাগার হবে! হয়তো হয়েও গেছে! প্রতি বাড়িতে প্রতি মানুষের শৌচ করার পরে জল লাগে। ভারতের প্রতি বাড়িতে প্রতি মানুষের শৌচ করার জন্য উপযুক্ত জল আছে কি?
আমার মনে হয় আছে! যদিও সরকারী হিসাব বলে এ দেশের ১/৩ অংশ মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল পায় না, শৌচ করার জন্য তো পানীয় জলের দরকার পরে না। তাই ----
১০ / ১৫ কিমি দূর থেকে আজও মানুষ জল আনে, কুয়া নেই বলে এক / একাধিক গ্রামে মানুষ কন্যাদান করে না, সেই গ্রামের কন্যারা / কন্যাদের অসুবিধা নেই কারণ তাদের ------------- আর লিখলাম না, (কন্যার পরিবার সহ্য করে নীরবে)
তবুও কি অসুবিধা আছে?
আমরা বরং চিন্তা করি - আমরা বরং গর্ব অনুভব করি পিথিবির সবচেয়ে বড় মুত্তি নিয়ে
আমরা চিন্তা করি ভারতীয় সৈন্যরা সিয়াচেনে মরছে তা নিয়ে (সেই সিয়াচেনে সেই ভারতীয় সৈন্যদের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে কৃষক মাঠে তার রক্ত জল করে ফসল ফলায়) সেই ফসলের দাম না পেয়ে, ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়, আর সিয়াচেনের জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করা যে রাজনৈতিক নেতা বলে কৃষক আত্মহত্যা করছে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, দ্যাস প্র্যামিক এর দল নীরব থাকে
আমরা বরং চিন্তা করি রাম মন্দির হবে কিনা তাই নিয়ে (রামের মুত্তি ও নাকি পিথিবির সবচেয়ে বড় মুত্তি হবে - তারপর ভারতে কোন গরীব থাকবে না, কোন গরু অনাহারে মরবে না)
আমরা বরং চিন্তা করি শবরী মালা নিয়ে। আমরা বলি (কত আইন - কত সংবিধান, সংবিধানে লেখা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং কর্তব্য বিচার করে) মহামান্য আদালতের বিচারপতিদের চেতনার অভাব, তারা আইনের উপরে গিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্ম কে কেন মানেন নি, মানুষের আবেগ কে মাথায় রাখেন নি, তারা ভীষণ অন্যায় করেছেন!
অশিক্ষিত এই সব মানুষ গুলোকে বিচার পতি বানালো কে?
কে আবার? যারা ভোটের রাজনীতি করে!
যাদের চিন্তা সনাতন হিন্দু ধর্ম(!) কে ধ্বংস করার!
এদেরই পূর্ব সুরিরা সতীদাহ আইন পাশ করেছিলেন!
তখনও তো গদির রাজনীতি ছিল!
বিদ্যাসাগর গদিতে বসবেন বলেই তো "বিধবা বিবাহ আইন" পাশ করিয়েছিলেন!
ক্ষমতার আসনে থাকবেন বলেই তো
নিজের ছেলের সাথে এক বিধবার বিয়ে দিয়েছিলেন!
এত ইতিহাস জ্ঞান
আমি এক অধম অজ্ঞান
তাদের সমর্থন করেছেন যারা
ও রে কত্তা, হেইরা তো ভুটের রাজনীতি কইর‍্যেছেন!
জেণাড়া ড্যাশ পিমিক ট্যাঙদের ভুট নাগে না
ত্যান দের ভুত নাগে
নঙ্গিন লোটের ভুত
সেই লোট দ্যায় কারা
ওই কার্গিল যুদ্ধের কফিন এর পয়সা
খে ই এন ছিল যারা
ইখন বিজয়
যাতে চাঁইড়ে চাঁইড়ে পাইল্যে যেঁতে পারে
উঁরা ঘুম্যায়ে দেখে
উঁরা ঘুম্যায়ে দেখে
উঁয়াদের সেই নাজুক ঘুমের আন্ধারে
নীরব লিরবে পাঁল্যাইন যায়
উঁয়াদের নাজুক ঘুম মাইনষ কে
বুকা বানাইতে চায়!
উয়ারা দ্যাস প্রারমিক
বুলন্দ শহরে পাথর মেরে পুলিশ খুন করলে
উয়াদের কান্না পায় না
বা কান্না পেলেও উয়ারা বলেক
উ তো কিছু মাইনষের দুষ!
মনোরমা কে ধর্ষণ করে
তার শরীরে একাধিক বুলেট ঢুকিয়ে দিলে
তা কোন এক সৈনিকের দোষ
কিন্ত
পেলেট গানের আঘাত সহ্য করে
নিজের বাচ্চা ছেলে অথবা মেয়েকে রাস্তায়
লুটিয়ে পড়তে দেখার পর
যদি কোন বাবা অথবা মা
হাতে পাথর তুলে নেয়
তা হল সমস্ত কাশ্মীরি দের দোষ!
পৃথ্বীর সমস্ত আদালত হার মানে
মাথা নত করে
এই অসাধারণ বিচারের কাছে!!!!!!
যারা এই অসাধারণ বিচার করেন
বিচার করার ক্ষমতা রাখেন
আমি তাঁদের নমন করি
কবিগুরুর ভাষায় বলি
"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধূলার পরে"
(অনেক জ্ঞান গম্ভীর কথা - সনাতন ধম্ম নিয়ে বাত শোনার পর লিখতে বাধ্য হলাম
জানি চুটকি লেখা - দু লাইনের লেখা পড়ে সকলে
এ লেখা পড়বে না সকলে
পড়বেন কিছু মানুষ এবং তারা যুক্তি দিয়ে লিখবেন বা
প্রতিবাদ করবেন)
আমি যুক্তি দিয়ে লেখা - পড়াশোনা করে লেখা বিরুদ্ধ মত চাইছি।

18 November, 2018

শিশু দিবসের ছবি

এক বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখলাম

একটি শিশুকে বলা হয়েছে
শিশু দিবসের ছবি আঁকতে
সে এঁকেছে বড় সুন্দর করে
তার কল্পনা মিশিয়ে,
তার বাবা - মার সাথে সে.
কিন্ত ক্লাসে জমা দেয় নি!


তার মা তাকে প্রশ্ন করে
সোনা বাবা
"কেন তুই ছবিটা জমা দিলি না?'
শিশু বলে
"এই ছবিটা কি সত্যি
বল না মা?
তুমি আর বাবা সারাদিন ব্যস্ত
নিজেদের কাজে
এ ছবিটা তো সত্যি নয় গো মা।"

"তাই এ ছবিটা আমি কাউকে দেখাব না
যেদিন আমার আঁকা এ ছবি সত্যি হবে
আমি এ ছবিটা দেখাব সকলের কাছে।"

শ্রীতোষ ১৬/১১/২০১৮
উৎসর্গ করলাম প্রতিটি শিশু এবং তাদের বাবা - মাকে
যাদের সন্তান কার্টুন চ্যানেল আর পিৎজা নিয়ে বাঁচে

23 October, 2018

চারখোল – যেখানে প্রকৃতি কথা বলে।

পরবাসী জীবনের কথকতা – চারখোল ভ্রমণ
চারখোল – যেখানে প্রকৃতি কথা বলে।
চারখোলের নাম প্রথম পড়ি @Tushar Kanti Bapi Chakrabarty এর পোষ্টে। আমাদের @Kunal Harmad Guhaসেখানে একটি নতুন হোটেল খুলেছে। পোষ্টের সাথে যা ছবি ছিল তা আমাকে আকর্ষণ করার পক্ষে যথেষ্টরও বেশী ছিল। ফলত গ্যাংটক পোস্টিং হওয়ার সাথে সাথেই বাপীদার সাথে যোগাযোগ করি এবং তারপরেই যোগাযোগ হয় কুণালের সাথে। ঠিক হয় পুজোর ৪ দিন ওখানেই কাটাব। হোয়াটস্‌ অ্যাপ এবং মেসেজের সহায়তায় বাকি ফর্মালিটি শেষ হয় এবং ১৬/১০/২০১৮ তে গ্যাংটক থেকে যাত্রা শুরু চারখোলের পথে। গ্যাংটক থেকে কালিংপং সময় লাগল প্রায় ৩ ঘণ্টা। কালিংপং এ কুণালের থাকার কথা, ওর সঙ্গে ফোনে কথাও হল কিন্ত ও কিছু কাজে আটকে গেছে, ফলে অপেক্ষার পালা শুরু। অস্বীকার করব না একটু বিরক্ত লাগছিল কারণ এর আগে দু – একটি ক্ষেত্রের বাজে অভিজ্ঞতা মনে পড়ে যাচ্ছিল, তবুও কোথাও একটা ভরসা ছিল যার দুটো কারণঃ প্রথমত বাপীদার রেফারেন্স এবং দ্বিতীয়ত কুণালের সাথে ফোনে যে টুকু কথা হয়েছিল তাতে ওকে দায়িত্ব বোধ সম্পন্ন বলেই মনে হয়েছিল। ও কিন্ত ফোনে জেনে নিয়েছিল যে আমরা কোথায় অপেক্ষা করছি এবং ওর কথায় ওটা কালিংপং এর অন্যতম সেরা একটি হোটেল (নাম কলস – ঠিক কালিংপং এস বি আই এর বিপরীতে) যার মধ্যে কোন রকম অত্যুক্তি ছিল না। একটা সুবিধে হয়েছিল, হোটেলের জানলা দিয়ে কালিংপং এর স্টেডিয়াম দেখা যাচ্ছিল এবং সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল, ফলে সময় কাটাতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না। অনুষ্ঠান দেখায় মগ্ন, হঠাৎ করেই আওয়াজ “স্যরি দাদা, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হল”, ফিরে তাকিয়ে দেখি কুণাল। দু মিনিটের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দাঁড়াল যে মনে হল আমরা যেন কত দিনের চেনা। আসলে ওর কিছু কেনাকাটা ছিল এবং ওর এক ভাইয়ের ছেলে কলকাতা থেকে আসছিল, যে আমাদের সাথেই চারখোল যাবে – এর জন্যই দেরী, তাছাড়াও সেদিন ওখানকার হাট বার তাই গাড়ি পাওয়াও মুস্কিল ছিল। সব মিলিয়ে এই দেরী। যাই হোক, আমরা কালিংপং ছাড়লাম প্রায় ৩ টে নাগাদ। রাস্তার দু পাশের সৌন্দর্য এবং গল্প কথায় পথ কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। গাড়ি এসে পৌঁছাল চারখোল, পাকা রাস্তা ছেড়ে এবার পাহাড়ে পাথুরে রাস্তা ধরল আমাদের চতুঃচক্র যান। অনেক দিন পরে এই রকম পাথুরে রাস্তার পথে চলা, আরও কিছু সময়, গাড়ি এসে থামল একটি ছাদের পাশে – হোটেল ক্রাউন ইম্পিরিয়াল। আমাদের থাকার ঘর অবশ্য মূল হোটেলে নয় তার চেয়ে আর এক ধাপ উঁচুতে আর একটি বাড়ির দোতলায়। মালপত্র চলে গেল সেখানে আর আমরা দুজনে নিচে নেমে এলাম। হোটেল ছোট কিন্ত তার বারান্দার ঠিক সামনে থেকে শুরু হয়েছে ঘন জঙ্গল যা ক্রমশ নিচের দিকে নেমে গেছে। মূল হোটেলে চারটি ঘর এবং অন্য বাড়িটিতে দুটি। খাওয়ার জায়গা এবং রান্না ঘর একই সাথে এবং দুটিই কাঠের তৈরি। জেনে ভালো লাগল, আমরা দুজন ওই হোটেলের প্রথম অতিথি। হোটেলে ঢোকার সাথে সাথে হাতে এল হোটেলের নাম, ই মেল এবং ওয়েব সাইটের পরিচয় দেওয়া এক সুদৃশ্য ব্যাগ যার মধ্যে ঘরের চাবি ছাড়াও রয়েছে একটি সাবান, নেল পালিশ এবং দুটি চুলের ব্যান্ড। আলাপ হল কুণালের মায়ের সাথে, রান্না ঘরের মূল দায়িত্ব ওনার হাতে। অত দেরী হয়ে গেছিল, তাই ভাতের বদলে চাউমিন দিয়ে সাময়িক ক্ষুধা নিবৃত্তি হল। তখন সন্ধ্যা নেমেছে।
ডাইনিং স্পেসের আলো নিভিয়ে দিতে বললাম, সাথে সাথেই এক অন্যরকম সৌন্দর্যের মধ্যে হারিয়ে গেলাম আমরা। ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ, মাঝে মাঝে দু একটি রাত চরা পাখির ডাক – আমরা চুপ করে শুনতে লাগলাম জঙ্গলের কথা। হঠাৎ করে অন্য রকম একটি শব্দ কানে এল, খুব ক্ষীণ ভাবে। কুণালের দিকে তাকাতে ও ফিস ফিস করে বলল বারকিং ডিয়ার এর ডাক। ভালো করে শোনার চেষ্টা করে বুঝলাম একটি নয় দুটি হরিণ ডাকছে। একটু বাদে আওয়াজ বেশ স্পষ্ট হল। তার কিছুক্ষণ বাদে আবার ক্ষীণ হতে হতে মিলিয়ে গেল। আমরা তখন মেঘের মাঝে বসে। এবার নিজেদের ঘরে যাওয়ার পালা। থ্রি বেডেড রুম, অ্যাটাচড বাথ, বাথরুমে ব্যবহারের জন্য একটি বাথরুম স্লিপার – এক কথায় সুন্দর সাজানো ব্যবস্থা। জার্নি করে ক্লান্ত ছিলাম তাই একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েও মনে হল সামনের ব্যালকনিতে বসলে কেমন হয়? এর মধ্যে চলে এসেছে টিফিন – গরম মুড়ি বাদাম দিয়ে ভাজা সাথে পেঁয়াজি। শীতের জায়গায় যাচ্ছি তাই গরম পানীয় সঙ্গে নিয়েই গেছিলাম। অতএব আর দেরী না করে ব্যালকনিতেই বসলাম দুজনে। নিজেদের মধ্যে কোন কথা নেই, মাঝে মাঝে পানীয়তে চুমুক আর মেঘের খেলা দেখা। নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হচ্ছে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে আর জঙ্গলের মধ্যে বয়ে চলা বাতাসের সরসর শব্দে। কতটা সময় চলে গেছে খেয়াল নেই, হঠাৎ কুণালের ডাকে সম্বিত ফিরল। রাতের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। খাওয়ার জায়গায় গেলাম। মাসিমা আগেই বলেছিলেন চমক থাকবে। ছিল চমক। গরম ভাতে ঘি দিয়ে শুরু – আহা সে ঘিয়ের গন্ধ কি! পাশে দেখি কিছু একটা মাখা রাখা আছে। জিজ্ঞাসা করতে মাসিমা বললেন “খেয়ে বলতে হবে”। মুখে নিতেই স্বাদ যন্ত্র বাহা বাহা বলে উঠল। মাসিমা জিজ্ঞাসা করলেন “ভালো লাগছে? কি বলত?” আমি উত্তর দিতে পারলাম না, সুরিতা বলল “কচু বাটা”। মাসিমা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললেন। আমি অবাক, জীবনে কোনদিন কচু বাটা খাই নি, তার স্বাদ এত অপূর্ব হতে পারে তা আমার চিন্তার বাইরে ছিল। সুরিতা বলল, “কি কচু বাটা খেয়ে নিলে তো?” আমি বললাম “এই রকম রান্না হলে আর তো কিছু করার থাকে না, আমি তো এইটা দিয়েই পুরো ভাত খেয়ে নিতে পারি”। চমকের বাকি ছিল আরও – পোস্ত দিয়ে কাতলা মাছ! সেও দারুণ খেতে। এরপর চাটনি। একদম প্ল্যাস্টিক চাটনির মত স্বাদ। হায় রে, সে নাকি স্কোয়াশ দিয়ে তৈরি। ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি এর মধ্যেই মাসিমার কাছে কাছে আমি ছেলে আর সুরিতা মেয়ে হয়ে গেছে। খাওয়া শেষ হলে মনে হল পুরো অজগর। রাতে এত বেশী কখনও খাই নি।
বাকি কথা পরের পর্বে।

"রাজনৈতিক সৌজন্য"

"রাজনৈতিক সৌজন্য"
শব্দদুটির আছে ওজন
কেজি কেজি টন টন
তিন মাসের দিই নাই বেতন
উৎসব আসিয়াছে দ্বারে
"সৌজন্য" পাঠায়েছি আমি
৫০,০০o ঘরে
ঠিক কিনা?
ঠিক ঠিক - ঠিক ঠিক


শিক্ষা মন্ত্রী শোন
এই উৎসবে মন্ডপে প্রান্তরে
বিকিবে আমার বাণী
বাজিবে আমার গান
বল সবাকারে
আর বাকি যত পুস্তক বিপণী
"সৌজন্য" দেখায়ে তুমি
কর ছত্রখানি
এ আদেশ সকলের
মেনে চলা চাই
নহিলে "সৌজন্য" সহকারে
মহারাজ - মগজ ধোলাই!
ঠিক বলেছ বিদূষক
"মগজ ধোলাই"


রক্ষা মন্ত্রী শোন
আনিয়াছি আমি উপহার
যথাযোগ্য "সৌজন্য" সহকারে
যাও চলে পন্ডিতের দ্বার
উপযুক্ত রক্ষী দল সঙ্গে নেওয়া চাই
প্রতিবাদ দেখিলেই প্রহার করা চাই
মহারাজ "রাজনৈতিক সৌজন্য" সহকারে
হে হে ঠিক বলেছ বিদূষক
"রাজনৈতিক সৌজন্য" সহকারে!


মহারাজ যদি পুড়ায় পুতুল
হ্যাঁ দু চারটে পুতুল পোড়াক
অ্যাঁ পুতুল - কার?
অপরাধ নেবেন না মহারাজ -
আপনার
সে কি?
এত "রাজনৈতিক সৌজন্য" র পরে
এখনও এরা "পুতুল" পোড়ানোর সাহস ধরে?
নগর কোটাল শোন
তোমার বাহিনী নিয়ে
যাও মন্ত্রীর পিছে
যদি দেখ কেহ রহেছে দাঁড়ায়ে
দের করিও না মিছে
চুলের মুঠিটি ধরে দিও তারে পুরে
যন্তর মন্তর ঘরে
মহারাজ - "রাজনৈতিক সৌজন্য" সহকারে
ঠিক বলেছ বিদূষক


ওহে সভাকবি শোনাও তোমার বচন
শুন শুন সর্বজন
শুন দিয়া মন
হীরক রাজার বানী
করহ শ্রবণ
হীরক রাজ্যে যত কিছু হয়
"রাজনৈতিক সৌজন্য" সহ
জানিবে নিশ্চয়
হীরক রাজার লেখা
গান -কবিতা শুনি
অক্ষয় স্বর্গ লভিবে
জেনে রাখ ধনী
এ বচনের যদি কেহ
প্রতিবাদ করে
স্থান হইবে তাহার
যন্তর মন্তর ঘরে
"রাজনৈতিক সৌজন্য" সহকারে


আজিকার মত সভা ভঙ্গ হল
সবে মিলি তবে
হীরক রাজার জয় বল