20 July, 2026

রক্ত ঝরে

 আমি একটা প্রতিবাদী মানুষ দেখি
যে রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলে
মারো – মারো আমায় মারো,
অজস্র মারে যদি আমায় হারাতে পারো।

ও প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষের সন্তান
যার আছে মান আর আছে হুঁশ।
সদ্য ভঁক্টোঁ আর অন্ধ ভঁক্টোঁ দের চোখ
দেখতেই পাচ্ছি কেমন অন্ধকারায় বদ্ধ।
সদ্য ভঁক্টোঁ ভুলে গেছে কবিগুরুর কথা,
অন্ধ ভঁক্টোঁ রবীন্দ্র নাথের কবিতা পঢ়ে।

আজকে দেখলাম
দাঁড়াল যৌবন -
প্রতিবাদী কণ্ঠে
সামান্য ওই মানহারা সমাজের দ্বারে।
জন গণ মন অধিনায়ক হয়ে
বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে উঠে
কম্বু কণ্ঠে বলে উঠলঃ

"আমি মারের সাগর পাড়ি দেব রে,
আমার ঘর ভাঙ্গা এক নায়ে,"
ওর রক্তের প্রতিটি ফোঁটা গান গায়ঃ
"আমি বিদ্রোহী সূত বিশ্ব বিধাত্রীর।"

ক্ষুদিরাম ও -
ও প্রফুল্ল চাকী
ও নাম না জানা সেই শহীদ
যে নেত্র সেনের মাথা উড়িয়ে দিয়েছিল
কাটারির এক কোপে।

ও সেই যুবক যে বন্দেমাতরম আওয়াজ তুলে
১০ টা চাবুক খেয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশের।

সেদিন সুশীল সেন মার খেয়েছিল
সরকারী পুলিশের হাতে
বন্দেমাতরম বলার জন্য।

আজকের সুশীল সেন মার খেল
কেন নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেল
তার জন্য।

সেদিনের সুশীল সেন কে পুলিশ চাবুক মারছিল
সুশীল বলছিল
বন্দে মাতরম
তখন সমাজ বলছিল কুলাঙ্গার যত সব।

আজকের সুশীল সমাজ বলছে
দেখা কেমন লাগে!
সেদিন যারা ব্রিটিশ ভক্ত ছিল
আজকে তারা
শুদধ্‌ সনাতনী সাতভিক এবং
এবং দেশপ্রেমিক ।
দেশপ্রেমে ভুল নেই সেদিনে ও ওদিনে।

আমি কিন্তু
অতীতের শিক্ষা নিয়ে আজও
কবিগুরু আর নজরুলের সাথে আছি।
আজকের ছেলেটার মারে আমার বিবেকের রক্ত ঝরে।
শ্রীতোষ ২০/০৭/২০২৬


16 July, 2026

অন্ধকার তোমাকে

 "ভালো আছো - ভালো থেকো
সুন্দর করে কাব্য লেখো
ছুঁয়ে যাক তোমার পরম পাওয়া
মৌলবাদের ভিতরে।
তসলিম করব তোমায় আমি
সুইডেনের নাগরিক রে।
চিন্তার অন্তরে অন্তরে তুমি ঘৃণ্য
অন্ধ কারার অন্তরে।

চেতনার কালো আন্ধারে।

পুষে রেখেছিল ওরা তোমায়
সময়ের প্রয়োজনে,
ব্যবহার করবে বলেই
অন্ধ রাতের ভিতরে


তোমার আগমনে অন্ধকার আরও কালো হবে
অত্যাচার শক্তি পাবে
তোমার কথায় যুক্তি জাগে
মৌলবাদের ভিতরে

তসলিম করি তোমায় আমি
অর্ধ সত্যের আন্ধারে
এক চোখেতে দেখছ তুমি
গোটা পৃথিবীটারে।

প্রণমি তোমায় বলতে পারলাম না
তোমার লেখা মেনে পেলাম
"লজ্জা"
(কারণ তুমি কোন ও দিন সৈয়দ মুজতবা আলি তো অনেক দূরের কথা গৌরি লঙ্কেশ ও হতে পারবে না)

শ্রীতোষ - ১৬/০৭/২০২৬




15 July, 2026

৩৫ বছর।

 

চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বাবা সত্যি
তাই তো প্রণাম করলাম
রাস্তার মাঝেতে
এবার একদিন বিয়ে করে নিয়ে যাব
সুরিতা কে
যতই করুন চেষ্টা আটকাতে পারবেন না।
যে গানের কথা গুলো কে নিজের মত সাজিয়ে এ পোষ্ট করা
১৯৯১ সালের ১৬ / ১৭ জুলাই সেই গানটা জানতাম ই না।
১৯৯০ সালের ২৭ শে অক্টোবর জানতাম না
আমার জীবনে
১৫ই জুলাই ১৯৯১ আসবে।
তবুও বিশ্বাস ছিল, ছিল জেদ।
আজ চাকরী জীবনের ৩৫ বছর পূর্ণ।
কাল থেকে আর এক নতুন দিনের শুরু।
৩৫ বছর আগের মতই
কালকে এক নতুন দিন।
আবার দেব আর এক জয়েনিং রিপোর্ট।
একই বিভাগে
নতুন কর্ম পথে ধরব নতুন গান।
চরৈবতি>
শুধু ভালো লাগছে এখানেই
৩৫ বছরের চাকরী জীবনে
বদলি হয়েছে বার বার।
এই প্রথম ফিরে আসতে চলেছে যেন সেইদিন টা আবার,
এই প্রথম যেন ফিরে এল সেই দিনটা আবার।
নতুন কর্ম পথে নতুন গান ধরে শুরু হল
আগামীর পথ চলা।
শ্রীতোষ ১৫/০৭/২০২৬

13 July, 2026

প্রতিবাদ

গুণ্ডা দমন আইনে গ্রেপ্তার না হতে পারে
যারা ভালো তৃণ মূল তারাই
যারা গ্রেপ্তার হতে পারে
যারা প্রতিবাদী তারাই।

যারা রাত জাগে প্রতিবাদে 
যাদের নেই ঘুম 
অত্যাচারিতের সাথে রাত জাগে
৩৬৫ দিন বিচার ছাড়াই 
হবে গ্রেপ্তার ওরা। 
হেবিয়াস করপাস শব্দ গুলো
অহল্যার মতই পাথর হয়ে যাবে
৮,৭৬০ ঘণ্টা (৩৬৫ X ২৪)
৫,২৫,৬০০ মিনিট (৩৬৫ X ২৪ X ৬০)
এবং
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড (৩৬৫ X ২৪ X ৬০ X ৬০)
সময়ের জন্য।

আমি একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে চাইতে পারতাম
যারা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছেন 
তাদের ঘরে একবার এই
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক>

আমি চাইছি না। 
আপনারা দেশপ্রেমিক
আপনাদের কারো ঘরে 
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক 
কোন ভাবে।
আমি চাইছি না। 

গুন্ডা দমন আইন স্বাগত।

তবে সকালের লাল সূর্য কে 
গুন্ডা দমন আইনে আটকানো যাবে না
যাবে না রক্তের লাল রং কে।
গুন্ডা দমন আইন মানুষের হৃদপিণ্ড কে
বাম থেকে ডাইনে পাঠাতে পারবে না। 

আজকের রক্ত লাল সূর্য কে দেখেছি
অস্ত যাওয়ার আগে
কালকে দেখব সকালের লাল সূর্য কে
প্রভাত সূর্য

অজস্র ৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড পরেও 
রক্তের রং গেরুয়া হবে না
প্রতিবাদী মানুষের শরীর থেকে 
রাষ্ট্রের আঘাতে 
রাস্তায় অথবা জেলের ভিতরে
লাল রক্তই ঝরবে।

শ্রীতোষ ১৩/০৭/২০২৬

10 July, 2026

মাকুরা থাকুক

 মাননীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন বলেছে আমিও সেটাই চাই, সব বুদ্ধিজীবী আর মাকুর মাথায় ডিম পড়ুক, যাতে দিলীপ ঘোষের বাড়িতে কোন  ব্রাহ্মণ কে ঢুকতে কেউ আটকাতে না পারে। অজস্র ব্রাহ্মণ ঢুকুক মাননীয় মন্ত্রীর বাড়িতে।


এখনও উত্তর প্রদেশ সহ গোটা ভারতে ব্রাহ্মণের এক অধিকার আছে শূদ্রের প্রতি

মনুবাদী হিন্দু সমাজের অধিকার।


মানতে পারবেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়?

এই শব্দ গুলো যদি লিখতে পারতাম তাহলে আমি হয়তো আপনারই মত হতাম।

আমি এই শব্দ গুলো লিখতে পারি না, 

ফারাক তো আছে 

ফারাক থাকবে। 


আপনারা গরুর দুধে সোনা খোঁজেন

আমি ইতিহাস পড়ি।

আমার ইতিহাস পড়া চেতনা

গত ১৫ বছরের এই সময়ের বাস্তবকে সমর্থন করে।


মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় 

আপনি হাসুন 

আজকে 

আমি থাকলাম আগামীর ইতিহাসের অপেক্ষায়।

যে ইতিহাস লেখা হবে আপনাদের ভবিষ্যতে।


৫০০ বছর পরে কার মন্দির স্থাপিত হবে 

কেউ বলেছিল,

তারও বহু আগে কেউ বলেছিল

থার্ড রাইখ বাঁচবে

১০০০ বছর। 

ইতিহাস উত্তর দিয়েছে তার।


আজ থেকে ১০ বছর পরেও আমি চাইব না

ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হোক

কারণ তা হলে বাঙালি ব্রাহ্মণ  

কায়স্থ, বৈশ্য আর শূদ্রের ঘরে

ঢোকার অধিকার পাবে।

অধিকার পাবে এক বিশেষ রাত্রে।


আপনার ঘর আপনারই থাকুক

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়

তাকে ঘিরে থাকুক 

ভারতের সংবিধান 

আর থাকুক মাকু রা

(মাকু না থাকলে যে টানা পোড়েন থাকে না

পোশাক বানানো যায় না

উলঙ্গ হয়ে থাকতে হয়)

বাবা রাম রহিম - আসারাম বাপুদের আটকাতে

আপনার পাশে একটা মাকু থাকা বড় দরকার।

আপনি ভালো থাকুন 


আপনাদের ভালো হোক।

07 July, 2026

এক সাধারণ মেয়ে

 বারুইপুরের মেয়েটা

নির্ভয়া নয়

তাই তাকে নিয়ে আজও পথ নাটক করে নি কোন নাট্য দল !


বারুইপুরের মেয়েটা অভয়া নয়

তাই আজ পর্যন্ত কোন মিছিল হল না

সু্বোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে

ধর্মতলা পর্যন্ত |


বারুইপুরের মেয়েটা তিলোত্তমা ও নয়

তাই তার জন্য রাত দখল করতে 

ভুলে গেল

সব্বাই |


আমরা সবাই বুঝিয়ে দিলাম

সবাই এক নয় |

অথবা ভয় পেলাম


আজকের পশ্চিম বঙ্গে

আসছে যে গুন্ডা দমন আইন

সেই আইনের ভয় |


মেয়েটা তখনও কিন্তু বেঁচে ছিল

গলায় পা দিয়ে চেপে ধরার পরেও

একটু নিশ্বাস নিচ্ছিল

বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছায় |

যখন ওকে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল


ও নির্ভয়া নয়

ও অভয়া নয়

ও তিলোত্তমা নয়

ও বারুইপুরের এক সাধারণ মেয়ে |

শ্রীতোষ ০৭/০৭/২০২৬

01 July, 2026

২ মাসের দেখা শোনা

 

প্রায় দু মাস। অনেক কিছু দেখলাম।
আপাতত ডিমঃ
মব লিঞ্চিং শুরু হয়ে গেছে ভাই - বোনেদের মাঝে অকৃত্রিম গট আপ ম্যাচে। একটা রেজিমেন্টেড দলের আসল লক্ষ্য অন্য আর একটা রেজিমেন্টেড সংগঠন। এখন ওয়ার্ম আপ চলছে। এরপর যে কোন প্রতিবাদী কে (যাদের ওরা দেশদ্রোহী বলে) রাস্তার মাঝখানে এর চেয়ে বেশী করে আক্রমণ করবে।
যারা আজকে মজা পাচ্ছে, কালকে তাদের পাশে কেউ থাকবে না। যারা এদের আসল প্রতিবাদী তারাই আসল লক্ষ্য - এখন তো উপলক্ষ্য দের উপরে নেট প্র্যাকটিস চলছে।