22 July, 2026

ক্ষমা করি

 

ওঁরা
যারা মনে করেন রাষ্ট্র মানে একটা মানুষ
আমি তাদের ক্ষমা করি।
ওঁরা
যারা মনে করেন
রাষ্ট্র মানে একটা রাজনৈতিক দল
আমি তাঁদের ও ক্ষমা করি।
ভারতের মহাকাব্য পড়া জ্ঞানে
ইতিহাস চেতনায়
এক সাধারণ মানুষ হিসাবে
তাঁদের ক্ষমা করি।
যুক্তি হীন, চেতনা হীন - বুদ্ধিহীন মানুষের চেহারা ধারী
এক কোষী অ্যামিবা যারা
তাঁদের ক্ষমা করা ছাড়া আর
কিছু করা যায় কি?
ওই একটা কোষে
ঢুকিয়ে দাওয়া হচ্ছে অজস্র তথ্য
বিচার করার শক্তি নেই
গিলে আর উগরে দেওয়া ছাড়া।
তাই এরা অন্ধ ঘৃণা আর অন্ধ ভক্তি ছাড়া
কিছুই ছড়াতে পারে না।
উদাহরণঃ
এরা হকার উচ্ছেদে বিদেশের কথা কয়
আবার
লেনিন কি করেছে এ দেশের জন্য
তাই নিয়ে পোস্ট করে যায়।
কখনও ববি দেশদ্রোহী এঁদের কাছে
ভালু হাকিম সম্পর্কে
সেলোটেপ সহ ২০০ গজ ব্যান্ডেজ
মুখে বাঁধা আছে।
শ্রীতোষ ২২/০৭/২০২৬

21 July, 2026

ক্যামন তুমি

 মাঝে মাঝে প্যারোডি লিখতে ইচ্ছে করে। সেই রকমই এক প্যারডিঃ

 

দলে ছিলে - দলে ছিলে কেমন করে?

 বুঝতে নারি কেমন তুমি 

উড বার্নে ভর্তি ছিলে 

কার দয়াতে 

বল না তুমি? 

আহা ! 

দলে ছিলে, ছিলে দলে 

কোন কথাটা তোমার খাঁটি 

কখন তুমি আসল (মা আর) মাটি 

কখন মেকি বোঝাও বোঝাও

 মদির সুরে

 বুঝতে (যে চাই) কেমন তুমি ? 

দলে ছিলে না কোন্দলে ছিলে 

বুঝতে নারি  - ক্যামন তুমি ? 

 কত রঙ্গে কথা বাজাও 

সাধ কি তাঁহার তাতে মেটাও

 লাভ্লি তুমি -  হৃদয় জুড়ে 

সাজাও, সাজাও কথা তোমার 

মদন রাগে সুর বাহার ।

 তোমার সুরে -  তোমার গানে 

আসল কথা বাইরে ওড়ে,

কোন কথা টা তোমার খাঁটি 

তুমি কি ভালু কিংবা  তুমি কালী ঘাটি? 

 বোঝাও বোঝাও বেশী করে 

বুঝতে নারি ক্যামন তুমি?

শ্রীতোষ

মুল রচনাঃ অনির্বাণ ভট্টাচার্য (সিনেমা বল্লভ পুরের রূপকথা)

ভারতের জম্বি দের উদ্দেশ্য করে

 

জম্বি রা জম্বিদেরই জন্য
লিখে চলে অগণ্য
জম্বিদেরই দেখে
ঘৃণা করে চলে যাই ই>
অগণ্য এ পথ প্রান্তে
জম্বিদের ঘৃণা কে দেখতে
মানুষের ই পথ হারাই।
ওরা তো ওদেরই মত
মানব চেহারা ধরে
নিজের শিক্ষা মত
মানুষকে ওরা মারে।
ওরা আসলেঃ
মনুষ্য নহে
মানব চেহারা ধারী
খিস্তি আর (কু) যুক্তি দিয়ে কথা কয়
(নন বায়োলজিক্যালের)
পরম ভঁক্টোঁ
শুদধ্‌ সনাতনী
বিরিঞ্চি বাবা
তাদের প্রণাম করি।
শ্রীতোষ ২১/০৭/২০২৬
(সত্যিই বলছি আমি যদি ওঁদের মতই হতাম, তাহলে ওরা যেমন ওদের বিরুদ্ধাচারী দের উদ্দেশ্যে বলে "তোদের আব্দুল চাচার খাটে জন্ম"
বলতাম "আপনাদের জন্ম এবং শিক্ষা 'নন বায়োলজিক্যাল' এর মত, যার কোন বাস্তব হিসাব নেই।)
আমি মান আর হুঁশ থাকা এক মানুষ
আমার চেতনা - আমার শিক্ষা আমাকে এই শব্দ গুলো উচ্চারণ করতে বাধা দেয়।

20 July, 2026

রক্ত ঝরে

 আমি একটা প্রতিবাদী মানুষ দেখি
যে রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলে
মারো – মারো আমায় মারো,
অজস্র মারে যদি আমায় হারাতে পারো।

ও প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষের সন্তান
যার আছে মান আর আছে হুঁশ।
সদ্য ভঁক্টোঁ আর অন্ধ ভঁক্টোঁ দের চোখ
দেখতেই পাচ্ছি কেমন অন্ধকারায় বদ্ধ।
সদ্য ভঁক্টোঁ ভুলে গেছে কবিগুরুর কথা,
অন্ধ ভঁক্টোঁ রবীন্দ্র নাথের কবিতা পঢ়ে।

আজকে দেখলাম
দাঁড়াল যৌবন -
প্রতিবাদী কণ্ঠে
সামান্য ওই মানহারা সমাজের দ্বারে।
জন গণ মন অধিনায়ক হয়ে
বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে উঠে
কম্বু কণ্ঠে বলে উঠলঃ

"আমি মারের সাগর পাড়ি দেব রে,
আমার ঘর ভাঙ্গা এক নায়ে,"
ওর রক্তের প্রতিটি ফোঁটা গান গায়ঃ
"আমি বিদ্রোহী সূত বিশ্ব বিধাত্রীর।"

ক্ষুদিরাম ও -
ও প্রফুল্ল চাকী
ও নাম না জানা সেই শহীদ
যে নেত্র সেনের মাথা উড়িয়ে দিয়েছিল
কাটারির এক কোপে।

ও সেই যুবক যে বন্দেমাতরম আওয়াজ তুলে
১০ টা চাবুক খেয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশের।

সেদিন সুশীল সেন মার খেয়েছিল
সরকারী পুলিশের হাতে
বন্দেমাতরম বলার জন্য।

আজকের সুশীল সেন মার খেল
কেন নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেল
তার জন্য।

সেদিনের সুশীল সেন কে পুলিশ চাবুক মারছিল
সুশীল বলছিল
বন্দে মাতরম
তখন সমাজ বলছিল কুলাঙ্গার যত সব।

আজকের সুশীল সমাজ বলছে
দেখা কেমন লাগে!
সেদিন যারা ব্রিটিশ ভক্ত ছিল
আজকে তারা
শুদধ্‌ সনাতনী সাতভিক এবং
এবং দেশপ্রেমিক ।
দেশপ্রেমে ভুল নেই সেদিনে ও ওদিনে।

আমি কিন্তু
অতীতের শিক্ষা নিয়ে আজও
কবিগুরু আর নজরুলের সাথে আছি।
আজকের ছেলেটার মারে আমার বিবেকের রক্ত ঝরে।
শ্রীতোষ ২০/০৭/২০২৬


16 July, 2026

অন্ধকার তোমাকে

 "ভালো আছো - ভালো থেকো
সুন্দর করে কাব্য লেখো
ছুঁয়ে যাক তোমার পরম পাওয়া
মৌলবাদের ভিতরে।
তসলিম করব তোমায় আমি
সুইডেনের নাগরিক রে।
চিন্তার অন্তরে অন্তরে তুমি ঘৃণ্য
অন্ধ কারার অন্তরে।

চেতনার কালো আন্ধারে।

পুষে রেখেছিল ওরা তোমায়
সময়ের প্রয়োজনে,
ব্যবহার করবে বলেই
অন্ধ রাতের ভিতরে


তোমার আগমনে অন্ধকার আরও কালো হবে
অত্যাচার শক্তি পাবে
তোমার কথায় যুক্তি জাগে
মৌলবাদের ভিতরে

তসলিম করি তোমায় আমি
অর্ধ সত্যের আন্ধারে
এক চোখেতে দেখছ তুমি
গোটা পৃথিবীটারে।

প্রণমি তোমায় বলতে পারলাম না
তোমার লেখা মেনে পেলাম
"লজ্জা"
(কারণ তুমি কোন ও দিন সৈয়দ মুজতবা আলি তো অনেক দূরের কথা গৌরি লঙ্কেশ ও হতে পারবে না)

শ্রীতোষ - ১৬/০৭/২০২৬




15 July, 2026

৩৫ বছর।

 

চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বাবা সত্যি
তাই তো প্রণাম করলাম
রাস্তার মাঝেতে
এবার একদিন বিয়ে করে নিয়ে যাব
সুরিতা কে
যতই করুন চেষ্টা আটকাতে পারবেন না।
যে গানের কথা গুলো কে নিজের মত সাজিয়ে এ পোষ্ট করা
১৯৯১ সালের ১৬ / ১৭ জুলাই সেই গানটা জানতাম ই না।
১৯৯০ সালের ২৭ শে অক্টোবর জানতাম না
আমার জীবনে
১৫ই জুলাই ১৯৯১ আসবে।
তবুও বিশ্বাস ছিল, ছিল জেদ।
আজ চাকরী জীবনের ৩৫ বছর পূর্ণ।
কাল থেকে আর এক নতুন দিনের শুরু।
৩৫ বছর আগের মতই
কালকে এক নতুন দিন।
আবার দেব আর এক জয়েনিং রিপোর্ট।
একই বিভাগে
নতুন কর্ম পথে ধরব নতুন গান।
চরৈবতি>
শুধু ভালো লাগছে এখানেই
৩৫ বছরের চাকরী জীবনে
বদলি হয়েছে বার বার।
এই প্রথম ফিরে আসতে চলেছে যেন সেইদিন টা আবার,
এই প্রথম যেন ফিরে এল সেই দিনটা আবার।
নতুন কর্ম পথে নতুন গান ধরে শুরু হল
আগামীর পথ চলা।
শ্রীতোষ ১৫/০৭/২০২৬

13 July, 2026

প্রতিবাদ

গুণ্ডা দমন আইনে গ্রেপ্তার না হতে পারে
যারা ভালো তৃণ মূল তারাই
যারা গ্রেপ্তার হতে পারে
যারা প্রতিবাদী তারাই।

যারা রাত জাগে প্রতিবাদে 
যাদের নেই ঘুম 
অত্যাচারিতের সাথে রাত জাগে
৩৬৫ দিন বিচার ছাড়াই 
হবে গ্রেপ্তার ওরা। 
হেবিয়াস করপাস শব্দ গুলো
অহল্যার মতই পাথর হয়ে যাবে
৮,৭৬০ ঘণ্টা (৩৬৫ X ২৪)
৫,২৫,৬০০ মিনিট (৩৬৫ X ২৪ X ৬০)
এবং
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড (৩৬৫ X ২৪ X ৬০ X ৬০)
সময়ের জন্য।

আমি একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে চাইতে পারতাম
যারা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছেন 
তাদের ঘরে একবার এই
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক>

আমি চাইছি না। 
আপনারা দেশপ্রেমিক
আপনাদের কারো ঘরে 
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক 
কোন ভাবে।
আমি চাইছি না। 

গুন্ডা দমন আইন স্বাগত।

তবে সকালের লাল সূর্য কে 
গুন্ডা দমন আইনে আটকানো যাবে না
যাবে না রক্তের লাল রং কে।
গুন্ডা দমন আইন মানুষের হৃদপিণ্ড কে
বাম থেকে ডাইনে পাঠাতে পারবে না। 

আজকের রক্ত লাল সূর্য কে দেখেছি
অস্ত যাওয়ার আগে
কালকে দেখব সকালের লাল সূর্য কে
প্রভাত সূর্য

অজস্র ৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড পরেও 
রক্তের রং গেরুয়া হবে না
প্রতিবাদী মানুষের শরীর থেকে 
রাষ্ট্রের আঘাতে 
রাস্তায় অথবা জেলের ভিতরে
লাল রক্তই ঝরবে।

শ্রীতোষ ১৩/০৭/২০২৬