13 July, 2026

প্রতিবাদ

গুণ্ডা দমন আইনে গ্রেপ্তার না হতে পারে
যারা ভালো তৃণ মূল তারাই
যারা গ্রেপ্তার হতে পারে
যারা প্রতিবাদী তারাই।

যারা রাত জাগে প্রতিবাদে 
যাদের নেই ঘুম 
অত্যাচারিতের সাথে রাত জাগে
৩৬৫ দিন বিচার ছাড়াই 
হবে গ্রেপ্তার ওরা। 
হেবিয়াস করপাস শব্দ গুলো
অহল্যার মতই পাথর হয়ে যাবে
৮,৭৬০ ঘণ্টা (৩৬৫ X ২৪)
৫,২৫,৬০০ মিনিট (৩৬৫ X ২৪ X ৬০)
এবং
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড (৩৬৫ X ২৪ X ৬০ X ৬০)
সময়ের জন্য।

আমি একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে চাইতে পারতাম
যারা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছেন 
তাদের ঘরে একবার এই
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক>

আমি চাইছি না। 
আপনারা দেশপ্রেমিক
আপনাদের কারো ঘরে 
৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড আসুক 
কোন ভাবে।
আমি চাইছি না। 

গুন্ডা দমন আইন স্বাগত।

তবে সকালের লাল সূর্য কে 
গুন্ডা দমন আইনে আটকানো যাবে না
যাবে না রক্তের লাল রং কে।
গুন্ডা দমন আইন মানুষের হৃদপিণ্ড কে
বাম থেকে ডাইনে পাঠাতে পারবে না। 

আজকের রক্ত লাল সূর্য কে দেখেছি
অস্ত যাওয়ার আগে
কালকে দেখব সকালের লাল সূর্য কে
প্রভাত সূর্য

অজস্র ৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড পরেও 
রক্তের রং গেরুয়া হবে না
প্রতিবাদী মানুষের শরীর থেকে 
রাষ্ট্রের আঘাতে 
রাস্তায় অথবা জেলের ভিতরে
লাল রক্তই ঝরবে।

শ্রীতোষ ১৩/০৭/২০২৬

10 July, 2026

মাকুরা থাকুক

 মাননীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন বলেছে আমিও সেটাই চাই, সব বুদ্ধিজীবী আর মাকুর মাথায় ডিম পড়ুক, যাতে দিলীপ ঘোষের বাড়িতে কোন  ব্রাহ্মণ কে ঢুকতে কেউ আটকাতে না পারে। অজস্র ব্রাহ্মণ ঢুকুক মাননীয় মন্ত্রীর বাড়িতে।


এখনও উত্তর প্রদেশ সহ গোটা ভারতে ব্রাহ্মণের এক অধিকার আছে শূদ্রের প্রতি

মনুবাদী হিন্দু সমাজের অধিকার।


মানতে পারবেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়?

এই শব্দ গুলো যদি লিখতে পারতাম তাহলে আমি হয়তো আপনারই মত হতাম।

আমি এই শব্দ গুলো লিখতে পারি না, 

ফারাক তো আছে 

ফারাক থাকবে। 


আপনারা গরুর দুধে সোনা খোঁজেন

আমি ইতিহাস পড়ি।

আমার ইতিহাস পড়া চেতনা

গত ১৫ বছরের এই সময়ের বাস্তবকে সমর্থন করে।


মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় 

আপনি হাসুন 

আজকে 

আমি থাকলাম আগামীর ইতিহাসের অপেক্ষায়।

যে ইতিহাস লেখা হবে আপনাদের ভবিষ্যতে।


৫০০ বছর পরে কার মন্দির স্থাপিত হবে 

কেউ বলেছিল,

তারও বহু আগে কেউ বলেছিল

থার্ড রাইখ বাঁচবে

১০০০ বছর। 

ইতিহাস উত্তর দিয়েছে তার।


আজ থেকে ১০ বছর পরেও আমি চাইব না

ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হোক

কারণ তা হলে বাঙালি ব্রাহ্মণ  

কায়স্থ, বৈশ্য আর শূদ্রের ঘরে

ঢোকার অধিকার পাবে।

অধিকার পাবে এক বিশেষ রাত্রে।


আপনার ঘর আপনারই থাকুক

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়

তাকে ঘিরে থাকুক 

ভারতের সংবিধান 

আর থাকুক মাকু রা

(মাকু না থাকলে যে টানা পোড়েন থাকে না

পোশাক বানানো যায় না

উলঙ্গ হয়ে থাকতে হয়)

বাবা রাম রহিম - আসারাম বাপুদের আটকাতে

আপনার পাশে একটা মাকু থাকা বড় দরকার।

আপনি ভালো থাকুন 


আপনাদের ভালো হোক।

07 July, 2026

এক সাধারণ মেয়ে

 বারুইপুরের মেয়েটা

নির্ভয়া নয়

তাই তাকে নিয়ে আজও পথ নাটক করে নি কোন নাট্য দল !


বারুইপুরের মেয়েটা অভয়া নয়

তাই আজ পর্যন্ত কোন মিছিল হল না

সু্বোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে

ধর্মতলা পর্যন্ত |


বারুইপুরের মেয়েটা তিলোত্তমা ও নয়

তাই তার জন্য রাত দখল করতে 

ভুলে গেল

সব্বাই |


আমরা সবাই বুঝিয়ে দিলাম

সবাই এক নয় |

অথবা ভয় পেলাম


আজকের পশ্চিম বঙ্গে

আসছে যে গুন্ডা দমন আইন

সেই আইনের ভয় |


মেয়েটা তখনও কিন্তু বেঁচে ছিল

গলায় পা দিয়ে চেপে ধরার পরেও

একটু নিশ্বাস নিচ্ছিল

বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছায় |

যখন ওকে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল


ও নির্ভয়া নয়

ও অভয়া নয়

ও তিলোত্তমা নয়

ও বারুইপুরের এক সাধারণ মেয়ে |

শ্রীতোষ ০৭/০৭/২০২৬

01 July, 2026

২ মাসের দেখা শোনা

 

প্রায় দু মাস। অনেক কিছু দেখলাম।
আপাতত ডিমঃ
মব লিঞ্চিং শুরু হয়ে গেছে ভাই - বোনেদের মাঝে অকৃত্রিম গট আপ ম্যাচে। একটা রেজিমেন্টেড দলের আসল লক্ষ্য অন্য আর একটা রেজিমেন্টেড সংগঠন। এখন ওয়ার্ম আপ চলছে। এরপর যে কোন প্রতিবাদী কে (যাদের ওরা দেশদ্রোহী বলে) রাস্তার মাঝখানে এর চেয়ে বেশী করে আক্রমণ করবে।
যারা আজকে মজা পাচ্ছে, কালকে তাদের পাশে কেউ থাকবে না। যারা এদের আসল প্রতিবাদী তারাই আসল লক্ষ্য - এখন তো উপলক্ষ্য দের উপরে নেট প্র্যাকটিস চলছে।

29 June, 2026

ভঁক্টোঁ তোমাকে

 

একদিন ওরা এসেছিল স্টেশনের হকার তুলতে
আমি উল্লসিত
কারণ ট্রেন লেট হয় ওদের জন্য
প্ল্যাটফর্ম নোংরা হয়
আমি সমর্থন করেছিলাম।
এরপর ওরা এল স্টেশনের বাইরের রাস্তায়
দোকান ভাঙতে
আমি সমর্থন করলাম
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের বন্যা বইয়ে দিলাম
সরকারী জমি দখল করে রেখেছে
জবর দখল কারী যত সব।
তারপর ওরা এল ফুটপাথে
মানুষের হাঁটা চলার অসুবিধা হচ্ছে
আমি আনন্দিত
ঠিকই তো।
ওরা একই সঙ্গে বলল
নিরামিষ খেলেই পুষ্টি হয়
একটু থমকালাম
তবুও ভাবলাম
ওরা যখন বলছে তখন কথা ঠিক।
এরপর ওরা বলল
রাস্তা চওড়া করতে হবে
এখানে ৪ লেনের রাস্তা হবে
বাড়ি ভাঙ্গা পড়বে তোমার।
জমিটা আসলে কিন্তু রাষ্ট্রের।
আমি এতদিন হেসেছি -
আনন্দ করেছি
আজকে কি করব?
কার দিকে তাকাব?
না অবশ্যই না
নেইমুল্যার এর লেখা শব্দ আজকে নতুন করে লিখব
তিনি লিখেছিলেন
"সেদিন আমার পাশে কেউ নেই"
আজকে শ্রীতোষ লিখছে
আজকে যারা অত্যাচারিত দের দিকে চেয়ে
নগ্ন উল্লাসে হাসছে
কালকে যদি পৃথিবীতে একজন
বামপন্থায় বিশ্বাস ধারী মানুষ বেঁচে থাকে
সেই মানুষ টা
ওদের পাশে দাঁড়াবে
ওদের হতাশাকে ভুলিয়ে দেবে
একটা বেঁচে থাকা বামপন্থী মানুষের
মানুষের প্রতি কর্তব্য আর ভালোবাসা।
শ্রীতোষ ২৯/০৬/২০২৬

28 June, 2026

অন্য কথা

পথ চলতে চলতে একটু ভালো লাগার গল্প লিখতে ইচ্ছে করে।
কেন লিখতে পারি না?
ঘুরতে বার হয়ে মানুষ দেখি
অনেক কথা শুনি।
কেন তাঁদের কথা লিখি না?

এক সময়ে লিখেছিলাম "দশাবতার তাস" এর গল্প
লিখেছিলাম
ঝালদার কথা লিখেছিলাম
এখন কেন লিখতে পারি না?

এখন প্রতিদিন ধ্বংস যজ্ঞ মাথায় ঘোরে
আমি হয়তো এমন হয়ে গেছি
আমার মাথায় ঘোরে শুধু
নিকোবরের মৃত্যুভুমি - মৃত্যুভুমি - মৃত্যুভুমি

গড়িয়া কে তো মরতে আমি দেখছি আমি
এক সময়ে হেঁটে চলে বেড়াতাম
দু পাশে ধানের খেতে
বিকাল বেলা - সকাল বেলা
এক সময়ে বাঁশ বন ছিল শ্মশান টাতে
আজকে মানুষ আড্ডা মারে
তাতেই রাতে।

এমনি করেই বদলে গেছে অনেক কিছু
ছানা গুলো খাবে এবার অন্য কিছু
রাজমা আর চাওল খেয়ে
ডিম ছুঁড়বে প্রতিবাদী হয়ে

সব কিছু তো বদলে গেছে বদলে গেছে
খারাপ রা তো ভালো হওয়ার লাইনে আছে
লাইনে আছে

তুমি শুধু ভক্ত হয়ে ঠুলি পর
আমাকে খিস্তি মারতে বড়ই দড়
বড়ই দড়>

এখনও ৩৪ এর গান গেয়ে যাও
গান গেয়ে যাও
ভঁক্টোঁ তুমি
পিঙ্ক স্লিপ ধরাচ্ছে তোমায়
অচ্ছে দিনের জন্মভুমি - জন্মভুমি

তুমি দেখ ৩৪ কে
আমি দেখি মানুষ তোমায়
তোমার ভবিষ্যৎ কাল থাকবে কোথায়
থাকবে কোথায়?

এই কথাটাই ভেবে আমি চেঁচিয়ে চলি
তোমার চোখের জলে লাল হয়ে যায়
জন্মভুমি - জন্মভুমি।

রবীন্দ্রনাথ আর লেনিন এই কথা টাই বলেছিল
বিশ্ব জুড়ে এই শব্দ গুলো লিখেছিল
তুমি তো পড়তে শিখে ভুল দেখেছ
জন গণের অর্থ খানি ভুল বুঝেছ।
দোষ তো তোমার হয় নি বন্ধু
হয় নি তোমার।
তোমার মাথার মধ্যে আছে অস্বীকার
নিজেকে তো চিনতে তুমি চাও না তুমি
তোমার চেতনায় ঘোরে শুধু আঁধার কৃমি
আঁধার কৃমি
ওই কৃমি টা ঘুরছে তোমার চেতনাতে
হিন্দু - মুসলিম দিচ্ছে ঘুরিয়ে ঘূর্ণি পাকে
ঘুর্নি পাকে।

তাক ধিনা ধিন তাধিন তিনা
আমি শুধু লিখতে পারি
তবু লিখিনা।
সব কিছুতেই দ্বেষ ছড়িয়ে
প্রেমিক সবাই

তাই তো একটু অন্য কথা যাই লিখে যাই
যাই লিখে যাই।
শ্রীতোষ

02 May, 2026

বিকল্প নেই বাম হাতের

 

কেউ কেউ আমাকে বিদ্রূপ করে বলেন
"বাম হাত কোন কাজে লাগে জানেন?"
আমি বলি
অবশ্যই জানি
শরীরের এবং সমাজের আবর্জনা পরিষ্কার করতে।
আপনি দক্ষিণ পন্থী হলেও
বাম হাত দিয়েই আবর্জনা পরিষ্কার করবেন।
এখানেই বামপন্থার জয়।
শরীরের এবং সমাজের আবর্জনা পরিষ্কার করতে বাম হাতের কোন বিকল্প নেই।