01 July, 2026

২ মাসের দেখা শোনা

 

প্রায় দু মাস। অনেক কিছু দেখলাম।
আপাতত ডিমঃ
মব লিঞ্চিং শুরু হয়ে গেছে ভাই - বোনেদের মাঝে অকৃত্রিম গট আপ ম্যাচে। একটা রেজিমেন্টেড দলের আসল লক্ষ্য অন্য আর একটা রেজিমেন্টেড সংগঠন। এখন ওয়ার্ম আপ চলছে। এরপর যে কোন প্রতিবাদী কে (যাদের ওরা দেশদ্রোহী বলে) রাস্তার মাঝখানে এর চেয়ে বেশী করে আক্রমণ করবে।
যারা আজকে মজা পাচ্ছে, কালকে তাদের পাশে কেউ থাকবে না। যারা এদের আসল প্রতিবাদী তারাই আসল লক্ষ্য - এখন তো উপলক্ষ্য দের উপরে নেট প্র্যাকটিস চলছে।

29 June, 2026

ভঁক্টোঁ তোমাকে

 

একদিন ওরা এসেছিল স্টেশনের হকার তুলতে
আমি উল্লসিত
কারণ ট্রেন লেট হয় ওদের জন্য
প্ল্যাটফর্ম নোংরা হয়
আমি সমর্থন করেছিলাম।
এরপর ওরা এল স্টেশনের বাইরের রাস্তায়
দোকান ভাঙতে
আমি সমর্থন করলাম
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের বন্যা বইয়ে দিলাম
সরকারী জমি দখল করে রেখেছে
জবর দখল কারী যত সব।
তারপর ওরা এল ফুটপাথে
মানুষের হাঁটা চলার অসুবিধা হচ্ছে
আমি আনন্দিত
ঠিকই তো।
ওরা একই সঙ্গে বলল
নিরামিষ খেলেই পুষ্টি হয়
একটু থমকালাম
তবুও ভাবলাম
ওরা যখন বলছে তখন কথা ঠিক।
এরপর ওরা বলল
রাস্তা চওড়া করতে হবে
এখানে ৪ লেনের রাস্তা হবে
বাড়ি ভাঙ্গা পড়বে তোমার।
জমিটা আসলে কিন্তু রাষ্ট্রের।
আমি এতদিন হেসেছি -
আনন্দ করেছি
আজকে কি করব?
কার দিকে তাকাব?
না অবশ্যই না
নেইমুল্যার এর লেখা শব্দ আজকে নতুন করে লিখব
তিনি লিখেছিলেন
"সেদিন আমার পাশে কেউ নেই"
আজকে শ্রীতোষ লিখছে
আজকে যারা অত্যাচারিত দের দিকে চেয়ে
নগ্ন উল্লাসে হাসছে
কালকে যদি পৃথিবীতে একজন
বামপন্থায় বিশ্বাস ধারী মানুষ বেঁচে থাকে
সেই মানুষ টা
ওদের পাশে দাঁড়াবে
ওদের হতাশাকে ভুলিয়ে দেবে
একটা বেঁচে থাকা বামপন্থী মানুষের
মানুষের প্রতি কর্তব্য আর ভালোবাসা।
শ্রীতোষ ২৯/০৬/২০২৬

28 June, 2026

অন্য কথা

পথ চলতে চলতে একটু ভালো লাগার গল্প লিখতে ইচ্ছে করে।
কেন লিখতে পারি না?
ঘুরতে বার হয়ে মানুষ দেখি
অনেক কথা শুনি।
কেন তাঁদের কথা লিখি না?

এক সময়ে লিখেছিলাম "দশাবতার তাস" এর গল্প
লিখেছিলাম
ঝালদার কথা লিখেছিলাম
এখন কেন লিখতে পারি না?

এখন প্রতিদিন ধ্বংস যজ্ঞ মাথায় ঘোরে
আমি হয়তো এমন হয়ে গেছি
আমার মাথায় ঘোরে শুধু
নিকোবরের মৃত্যুভুমি - মৃত্যুভুমি - মৃত্যুভুমি

গড়িয়া কে তো মরতে আমি দেখছি আমি
এক সময়ে হেঁটে চলে বেড়াতাম
দু পাশে ধানের খেতে
বিকাল বেলা - সকাল বেলা
এক সময়ে বাঁশ বন ছিল শ্মশান টাতে
আজকে মানুষ আড্ডা মারে
তাতেই রাতে।

এমনি করেই বদলে গেছে অনেক কিছু
ছানা গুলো খাবে এবার অন্য কিছু
রাজমা আর চাওল খেয়ে
ডিম ছুঁড়বে প্রতিবাদী হয়ে

সব কিছু তো বদলে গেছে বদলে গেছে
খারাপ রা তো ভালো হওয়ার লাইনে আছে
লাইনে আছে

তুমি শুধু ভক্ত হয়ে ঠুলি পর
আমাকে খিস্তি মারতে বড়ই দড়
বড়ই দড়>

এখনও ৩৪ এর গান গেয়ে যাও
গান গেয়ে যাও
ভঁক্টোঁ তুমি
পিঙ্ক স্লিপ ধরাচ্ছে তোমায়
অচ্ছে দিনের জন্মভুমি - জন্মভুমি

তুমি দেখ ৩৪ কে
আমি দেখি মানুষ তোমায়
তোমার ভবিষ্যৎ কাল থাকবে কোথায়
থাকবে কোথায়?

এই কথাটাই ভেবে আমি চেঁচিয়ে চলি
তোমার চোখের জলে লাল হয়ে যায়
জন্মভুমি - জন্মভুমি।

রবীন্দ্রনাথ আর লেনিন এই কথা টাই বলেছিল
বিশ্ব জুড়ে এই শব্দ গুলো লিখেছিল
তুমি তো পড়তে শিখে ভুল দেখেছ
জন গণের অর্থ খানি ভুল বুঝেছ।
দোষ তো তোমার হয় নি বন্ধু
হয় নি তোমার।
তোমার মাথার মধ্যে আছে অস্বীকার
নিজেকে তো চিনতে তুমি চাও না তুমি
তোমার চেতনায় ঘোরে শুধু আঁধার কৃমি
আঁধার কৃমি
ওই কৃমি টা ঘুরছে তোমার চেতনাতে
হিন্দু - মুসলিম দিচ্ছে ঘুরিয়ে ঘূর্ণি পাকে
ঘুর্নি পাকে।

তাক ধিনা ধিন তাধিন তিনা
আমি শুধু লিখতে পারি
তবু লিখিনা।
সব কিছুতেই দ্বেষ ছড়িয়ে
প্রেমিক সবাই

তাই তো একটু অন্য কথা যাই লিখে যাই
যাই লিখে যাই।
শ্রীতোষ

02 May, 2026

বিকল্প নেই বাম হাতের

 

কেউ কেউ আমাকে বিদ্রূপ করে বলেন
"বাম হাত কোন কাজে লাগে জানেন?"
আমি বলি
অবশ্যই জানি
শরীরের এবং সমাজের আবর্জনা পরিষ্কার করতে।
আপনি দক্ষিণ পন্থী হলেও
বাম হাত দিয়েই আবর্জনা পরিষ্কার করবেন।
এখানেই বামপন্থার জয়।
শরীরের এবং সমাজের আবর্জনা পরিষ্কার করতে বাম হাতের কোন বিকল্প নেই।

19 April, 2026

ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি

 

এই বছর ডিউটি না পাওয়া এক ভোট কর্মীর কথা।
বলছি নির্বাচন কমিশনের মাথায় যারা আছেন তাদের। আসলে এই নির্বাচনে আপনারা যুক্তি নিয়ে বড় বেশী মাথা ঘামাচ্ছেন। লজিক্যালি এত লজিক দেখাচ্ছেন দেখাচ্ছেন যে মাথাটা কেমন যেন - - লাগছে।
একই সঙ্গে প্রতিটি ভোট কর্মী কেই বলছি।
হতে পারেন আপনি কোন এক পোলিং অফিসার / প্রিসাইডিং অফিসার অথবা মাইক্রো অবজারভার।
ভোট রঙ্গে আপনি অর্থাৎ ভোট কর্মীরা একটা পাপেট অথবা বাদ্য যন্ত্র। নির্বাচনের ডিউটি যখন আপনি পেলেন অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা - অনিচ্ছা - বয়স - সুবিধা - অসুবিধা ইত্যাদির কোন কিছুকে গুরুত্ব না দিয়ে যখন কোন এক আই এ এস অফিসারের ইচ্ছামত তার অধস্তন আর এক আই এস অফিসার এর সিদ্ধান্ত মত একজন ডব্লিউ বি সি এস অফিসার আপনাকে বাধ্য করলেন গণতন্ত্রের এক মহান প্রহরী হতে, তখন থেকেই আপনি একজন কথা বলা (আসলে না বলা) পুতুল নাচের পুতুল। আপনি বলুন আর না বলুন - প্রতিটি ভোট কর্মীর একই বাস্তব। বাজাও আমারে বাজাও, নাচাও আমারে নাচাও।
আপনি ট্রেনিং নিতে যাবেন, ট্রেনিং নেওয়ার সময় প্রশ্ন করবেন কিন্তু উত্তর পাবেন না। আপনি আইন নিয়ে প্রশ্ন করবেন, এই কাজ টা করার জন্য আপনাকে কোন অ্যাক্ট - কোন রুল বলেছে, উত্তর নেই। হ্যান্ড বুক - ট্রেনিং এর সময় আপনি লজিক্যালি পাবেন না। আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারবেন না "এটা কি লজিক্যাল না ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি"?
গরু - ছাগলের মত আপনাকে গাড়িতে তোলা হবে, একটা বাথরুম থাকা অবস্থায় ১০ / ২০ / ২৫ জন কে একটা খোঁয়াড়ে (থুড়ি ভোট কেন্দ্রে) রাখা হবে, আপনার জিজ্ঞাসা করার কোন অধিকারই নেই "এটা কি লজিক্যাল না ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি"?
যদি এখনকার দিনে প্রশ্ন করেন (কোন দিন নির্বাচন ডিউটি না করা দ্বেষ প্রেমিকদের দল সোচ্চারে চিল্লাবে যে চিৎকার চিল্লানোসোরাসদের হার মানিয়ে দেবে) এরা দেশদ্রোহী। টাকা - পয়সা অথবা ভিসা না করিয়ে দিয়েই ওরা পাকিস্থানে চলে যাওয়ার নিদান দেবে।
ইভিএম জমা দেওয়ার শেষে আপনি পুড়ে যাওয়া দেশলাই কাঠি অথবা সিগারেটের ফিল্টার টিপস অথবা গুটকার ছেঁড়া প্যাকেট।
প্রথম ভোটের ডিউটি ১৯৯৬ সালে। তখন বোলপুরে পোস্টেড। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে।
তাহলে আজ কেন লিখলাম?
এইবারই প্রথম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এল কিন্তু
ভোট কর্মীরা লজিক্যাল / লজিস্টিক্যাল মিনিমাম কিছু সুবিধা পাবেন কি?
২৪ এবং ২৯ তারিখ রাত্রে ভোট কর্মীরা উত্তর পাবেন আশা রাখি।
আশা করি, নির্বাচন কমিশন ২৪ এবং ২৯ তারিখ রাত্রে ডি সি আর সি তে ই ভি এম সহ সব কাগজ পত্র জমা দেওয়ার শেষে ভোট কর্মীদের (যাঁরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসাবে নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন) প্রতি সামান্য একটু লজিক্যাল হবেন।
বি দ্রঃ
প্রথম বার ভোটের ডিউটি করার পর, বোলপুর চিত্রা সিনেমার উল্টোদিকের মাঠ থেকে (ওটাই ছিল ডি সি আর সি) ৫ কিমি পায়ে হেঁটে সিয়ান এ ফিরেছিলাম (হাঁটা শুরু করেছিলাম রাত সাড়ে এগারোটায়)

30 March, 2026

হেরে গেল কি মানুষ?

 

রাহুল অরুণোদয় আমি একজন সাধারণ মানুষ
আমি জানি আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না
আপনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
তবু আপনাকেই প্রশ্ন করি
আপনি যদি বেঁচে থাকতেন
তাহলে নিজের চোখ দুটো কে এভাবে নষ্ট হতে দিতেন?
অবশ্যই এক ঘণ্টা জলে ডুবে থাকার পর
চোখ ঠিক থাকে না।
কিন্তু অন্য প্রত্যঙ্গ?
নিজের কংকাল তো নতুন ডাক্তারের কাজে লাগে
আপনি তো সহজ কথায় মানুষের কথা বলতেন
আপনি বড় সাধারণ ছিলেন।
আমি একজন সাধারণ মানুষ
যখন শুনলাম যে মানুষটার নাম ছিল
অরুণোদয়
তাঁর শরীর পুড়ে ছাই হয়ে গেল
তখন বড় কষ্ট পেলাম।
এক মেরুদণ্ড সোজা করা মানুষ
আজ হেরে গেল
মৃত্যুর পরে।
বড় দুঃখ পেলাম।
হয়তো বা বামপন্থা হেরে গেল।
আজকেও জীবিত রাম রমণ ভট্টাচার্য
আজও জীবিত জ্যোতি বসু
মরণ সাগর পারে অমর তাঁরা।
আপনার পরিবার বামপন্থী হতে পারলেন কি?
জিজ্ঞাসা করছে শ্রীতোষ

19 March, 2026

অরাজনৈতিক

 কত লোকে অরাজনৈতিক হয়েছিল


তারা কিষেনজীর সাথে ছাতা মাথায় নিয়ে মিটিং করেছিল |

কিষেনজী ও হয়তো চেয়েছিল |

ছত্রধর সমাজ বদলাতে চেয়েছিল

গোঁসাই বাবু কার মাথা যেন কোন খালে  দেখতে চেয়েছিল !

অরাজনৈতিক মাথা !

কে যেন অরাজনৈতিক কথকতা কয়েছিল !

মোমবাতি - দেশলাই কাঠি নিয়ে ১ooo কোটি মানুষের 

অরাজনৈতিক মিছিল !


আবার এমন একটা মিছিল জাগুক 

মহানগরের পথে !


যারা রাজনীতিকে মুখে ঘৃণা করে 

রাজনীতি করে |

জাগুক সে মিছিল

যে মিছিলে অংশ নেওয়া 

প্রতিটি দো পেয়ে জীবের মুখ

একজন সাধারণ নির্বাচক হিসাবে

আমি চিনে নিতে পারি |

বলছে শ্রীতোষ

কারণ সে নির্বাচক

একজন নির্বাচক দায়িত্ব নিয়ে বলে

যে বলে আমি অরাজনৈতিক

তার থেকে বড় ভদ্রসন্তান 

পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত জন্মায় নি 

এবং

জন্মাবেও না

১৯/০৩/২০২৬