24 February, 2017

একুশে ফেব্রুয়ারি

কত একুশ গেছে কেটে
একুশে ফেব্রুয়ারি পালন হয়েছে কত
উৎসবে - কবিতায় - গানে
"আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি"
বরকত - সালামের মূর্তিতে
কত মালা পড়ে
কত শহীদ বেদী ফুলে ফুলে ঢেকে যায়
তারপর ক্যালেন্ডারের পাতায়
থাকে অপেক্ষায়
অমর একুশ একটি তারিখ হয়ে
আগামী বছরের জন্য।
আজও বাংলায় এপারে ও ওপারে
রাত জাগে মানুষ নতুন ভোরের জন্য
না রাত জাগে মানুষ ইংরাজী নিয়মে
AFTER 24.00 HRS. এর ঘণ্টা বাজার জন্য!
ইংরাজি নিয়মে পালন হয় 21ST FEBRUARY.
তাই ক্যালেন্ডারের পাতায় ২১ শে
একটি তারিখ হয়েই থেকে যায়।
পরদিন সকালে
২১ শে পালন করা বাবা অথবা মা
শিশুর হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে
ইংরাজি স্কুলের গোড়ায়
তাকে HARRY POTTER দেয় কিনে
ঠাকুরমা আর ঠাকুরদার ঝুলি OBSOLETE আজ।
কিছু পাগল আজও কিন্ত রাত জেগে থাকে
থাকে অপেক্ষায়
প্রভাত সূর্যের প্রথম কিরণের
একটি নমস্কারে তারা
তাঁদের স্মরণ করে যায়
অমর ২১শ কে বলে যায়
তোমরা ছিলে তাই আছি আমরা
তোমরা সূর্য হয়ে দিলে আলো
আমরা প্রদীপ হয়ে জ্বলে যাব
দিয়ে যাব উত্তরাধিকার
নতুন সূর্যের হাতে। শ্রীতোষ - ২১/০২/২০১৭

৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮

২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
কেন নয় ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮
একই দিন
যেদিন রক্ত ঝরে
নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকারে
নিজভূমিতে !

চলে গেছে আরও কত ২১শের দিন
নীরব কান্নায় কেঁদে চলে
৮ই ফাল্গুন
তোমরা মাতৃভাষায় কথা বলতে চাও
তাই ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮
নীরবে ২১ শে র প্রতি তোমাদের প্রণামকে
করে নমস্কার
আর বলে
আমি ৮ই ফাল্গুন
বাংলায় আমাকে ভুলে যাও তোমরা
আমার জন্য নেই কোন দিন
আমি ৮ই ফাল্গুন
ইংরাজি ভাষায় বলি
NO WHERE I WAS THERE BECAUSE
আমি ৮ই ফাল্গুন
আমার নেই কোন গুণ
আমি অব্যবহৃত তোমাদের মনে
২১ শে ফেব্রুয়ারির ছায়ায় ঢেকে থাকা
আমি ৮ই ফাল্গুন
আমি ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮

একুশের কথা

একুশ মানে মায়ের হাসি
কোমল চোখে চাওয়া,
একুশ জানায় আপন ভাষায়
খুশিতে গান গাওয়া।
একুশ মানে ঝড় উঠেছে
বৃষ্টি আসে ওই,
একুশ বলে মাগো আমার
কাজলা দিদি কই ?
একুশ মানে জাগল মানুষ
অধিকারের ডাকে
একুশে তাই রক্ত ঝরে
রুখবে তুমি তাকে ?
একুশ তোমার - একুশ সবার
গাই একুশের গান
মাতৃ ভাষায় বলব কথা
রাখব ভাষার মান। শ্রীতোষ - ২১/০২/২০১৭

22 December, 2016

যে আগুনের দিকে চেয়ে থাকতে
ভালো পোশাক পড়া (কালো) মানুষ গুলোর
তোমাদের চোখ ঝলসে যায়
সে আগুনের মাঝে আগুন বয়ে
তপ্ত লোহা অঙ্গার আর ধুলোর মাঝে
কাজ করি আমরাই।


পরনে গেঞ্জি – খালি পা
শরীর কালোয় কালো
আমরা কাজ করে চলি।
গলন্ত লোহা বয়ে এনে
ঢেলে দিই ছাঁচে
(আমার মত কোন মজুরের বানানো ছাঁচ)
আবার দৌড়াই
আরও ছাঁচ আছে অপেক্ষায়
নতুন রূপ পাবে বলে ।

ফুসফুস ঝাঁঝরা আমাদের
ধোঁয়া আর ধুলোয়
আর কোন জানা – অজানা গ্যাসে
পাকস্থলী হয়েছে ঝাঁঝরা আগুনে
তরল আগুনে !
সস্তা মদের গরম আগুনে!
ক্লান্ত শরীর সে আগুনে পুড়ে
নেয় বিশ্রাম !

না হলে কালকে মেশিন চলবে না
মেশিন করে অনেক কাজ
তবুও
মেশিন চালায় মানুষ।
মেশিন যদি না চলে
ওহে ভদ্দর লোকেরা
যারা আমাদের দিকে অবহেলায় তাকিয়ে
অনুচ্চারিত কিছু গালি মেরে
চলে যাও কাজে
আমাদের সেলাম নিয়ে।

তোমরা ভুলে যাও -
দামি পোশাক পড়ে
দামী হোটেলে দামী মদে চুমুক দাও
গান করা মেয়েদের দিকে পবিত্র দৃষ্টি তে তাকাও
আর টাকা ওড়াও
(পরের দিন সকালে তাঁদের বেশ্যা বল)
আর আমাদের কথা ভেবে ফেল চোখের জল
অথবা আমার লেখা এ কবিতার মত
কবিতা লেখ
তোমাদের মত মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য –

জেনে রাখ
সব হয়ে যাবে শেষ
শেষ হবে তোমাদের পাণ্ডিত্য আর
নর্তন
যদি আমরা না থাকি।
শেষ বারের মত সচেতন করে দিলাম
এবার দেখা হবে পথে !
আজ বিদায় ।। শ্রীতোষ ২২/১২/২০১৬

18 December, 2016

পোড়া

আজ বড় সুখের সময় নয়
আজ আগুনে পোড়ে না অন্যায়
পোড়ে প্রতিবাদ!

13 December, 2016

আমি ভাসছি আনন্দে
আমি সেই ৯ অথবা ১৪
কিংবা ১৮ র মেয়ে
তোমরা হেঁটে যাও
আমাদের পাশ দিয়ে
অথবা ধুয়ো উড়িয়ে যায় চলে
তোমাদের গাড়ি ।


আমি সেই রাস্তার মেয়ে
বয়স ৯ থেকে ১৮ আমার !
ফুটপাথে ঘর !

রাতে অন্ধকারে তুমি আস
তোমার গাড়ির ভিতরে তখন
তুমি ছাড়া আছে তারাও
যারা হেঁটে চলেছিল
আমাদের পাশ দিয়ে –
অবজ্ঞায় তাকিয়ে।

ভিতরে উৎসব – রাতে
ফোয়ারা ছুটেছে ভাই –তাই
এক শরীর বড় দরকার
নারী অথবা পুরুষ শরীর
৯ থেকে ১৪ কিংবা ১৮ র
কচি শরীর !
আমাদের তুলে নাও -
সে আমি পড়ে থাকি না কেন
পার্ক ষ্ট্রীটে
অথবা এক্সাইড মোড়ে
অথবা ধর্ম তলার নামী হোটেলের
সামনের ফুটপাথে !

এ শহরের দামী ফুটপাথে
তোমাদের গাড়ি এসে দাঁড়ায়
আমাদের দিকে চেয়ে থাকা
জানলার কাঁচ নামে,
আঙ্গুল ইশারা করে -
আমরা ইশারায় চলি -
আঙ্গুল দরজা খোলে
আমরা ঢুকে যাই ,
মনে আনন্দ !

টাকা জুটবে কিছু - আর
জানি সকালে এ শুকনো  শরীর দেখে
তোমাদের জাগবে ঘৃণা –
প্রয়োজন মিটে যাওয়া এ শরীর ছুঁড়ে ফেলে দেবে রাস্তায়
যেমন করে তোমরা তোমাদের
খাওয়ার উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে ফেল
কুকুর – কাকের জন্য
তোমাদের বাড়ির সামনে।

জানো
কাল সকালে আমার ভাই
পেট পুরে ভাত খেতে পাবে
আমার রুগ্ন বাবা একদিনের জন্য
রাস্তায় বার হয়ে ঠেলা চালানো র
থেকে মুক্তি পাবে না – তবুও
আমার শরীরের বিনিময়ে
রোজগার করা টাকায়
সে দশটা মিনিট
নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
একটু খানি মুড়ি খেতে পারবে।
তাই আমরা তোমাদের উচ্ছিষ্ট হয়ে যাই।

তবুও জেনে রাখ
এ জীবন বেঁচে আছে
তোমাদের মৃত্যুর আনন্দে
আমার শরীরে যে রোগ দিয়েছ
তোমরা - জানি আমরা
তাই আমরা নিঃশব্দে নীরবে
যারা ফুটপাথে বাঁচি
৯ থেকে ১৪ অথবা ১৮
নিজেদের দু পা উন্মুক্ত করি
তোমাদের জন্য ।

তোমাদের জন্য
আমাদের মৃত্যু পাঠাই
তোমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য
আমরা তো মরবই
তোমরা বাঁচবে কেন
কারণ
তোমরাই তো আমাদের মানুষ
বলে ধর নি
কে দিয়েছে তোমাদের বাঁচার অধিকার ?
আমরা তোমাদের সামনে কোন প্রশ্ন রাখি নি
প্রশ্ন রাখে নি সেই মেয়েটা
যার সামনে আজ রাত্রেও
ফুটপাথে
গাড়ির হর্ন বাজবে !
তারপর -
শ্রীতোষ ১২/১২/২০১৬

21 October, 2016

লিখতে পারলাম কি ?


ফেসবুকে যারা যুদ্ধ রব তোলে তাঁদের মধ্যে অনেকই

কোনদিন সীমান্ত দেখে নি হয়তো
বোঝে নি
কত সীমন্তের সিঁদুর মুছে
কত ওড়নার বিনিময়ে
সীমান্ত হয় আঁকা !

এরা নেতাদের কথা শুনে নাচে
এরা বোঝে না
সাধু - মহারাজ - ইমাম - মোল্লা এবং প্রিস্ট আছে যত
এবং ওদের ভরসায় বেঁচে থাকা নেতা গুলো

কোন দাঙ্গায় মরে না
কোন যুদ্ধে মরে না
ওরা নিজের স্বার্থে
সাধারণ মানুষের রক্ত পান করে !

দুর্ভাগ্য এ পৃথ্বীর
সাধারণ মানুষ এদের নেতা বানিয়ে
এদের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়
গণতন্ত্রের নামে !

জানি আমি
ব্যতিক্রম আছে কিছু।।

সেই ভরসা নিয়ে
কিছু কথা লিখে যাই
হয়তো বা নিজেই নিজেকে
হত্যা করে যাই
প্রতি রাতে
নতুন ভোর দেখব
এ স্বপ্ন দেখে
বার বার কিছু কথা লিখে যাই ।

লিখতে পারলাম কি ?