18 October, 2016

মানব জীবন

একটা কথা বলি বাবুমশাইরা
একটু ভাববেন
নীল আকাশে সাদা মেঘ বেড়ায় ভেসে
বড় সুন্দর লাগে
কবি কাব্য লেখে
তাই তো ?

এবার বলি বাবুমশাই
আর একটু ভাবেন
মেঘের রঙ বদলে কালো হয়ে যায়
বাতাস ওঠে – বৃষ্টি নামে
বাতাস ঘর বাড়ি ভেঙ্গে দেয়
যখন সে ঝড় হয়
বৃষ্টি ফসলের খেত ডুবিয়ে দেয়
যখন সে বন্যা হয়।
ভুল বললাম ?
বল না বাবুমশাই
সূর্য না থাকলে
পৃথিবীতে বাতাস বইত কি
বৃষ্টি নামত কি?
বল না ।
ও বাবুমশাই
প্রভাত আর সন্ধ্যা সূর্যের রঙ
পৃথিবীকে সেই বার্তা দেয়
বলে
যে যতই বল আর চিৎকার কর
প্রভাত ও গোধূলির রঙ
বদলাতে পারবে না ।
তাই না ?
তাই বলি বাবুমশাই
নীল আকাশে সাদা মেঘ ছাড়া
বাঁচতে হয়তো পার
সূর্য ছাড়া
প্রভাত আর গোধূলি ছাড়া
বাঁচতে পারবে না
পারবে কি -বল না ?
কারণ প্রভাত – গোধূলির মাঝেই
লুকিয়ে আছে
মানব জীবন ।। শ্রীতোষ ১১/১০/২০১৬

অভিনয়

আমার কাছে প্রতিদিন - মরণ দিন।
ঘুমাতে যাওয়ার সময় জানি না
পরের দিনের সূর্য দেখব কিনা -
ঘুমানোর পর কি হয়
তাও জানি না।
আসলে মানুষের জীবন তো তাই !
প্রভাত সূর্যের আলোয় মঞ্চে আসা
কত আলো পড়ে গায়ে
কত সংলাপ বলে যাই
কত - কত - কত !
এক সময় যে পথে মঞ্চে এসেছিলাম
যে পদক্ষেপে
অন্য এক পদক্ষেপে
সে পথে মঞ্চ ছেড়ে যাই
অথবা
ছেড়ে যাই মঞ্চ অন্য পথে
অন্য পদক্ষেপে !
আমরা সেই পরিচালকের নির্দেশে
জীবনের অভিনয় করে যাই

প্রশ্নের উত্তর আছে কি

চলেছে - চলছে - চলবেই
দূর্গার বিসর্জন তো হবেই !
ধর্ষিত দুর্গার !
মানুষ দ্বারা ধর্ষিত দুর্গার
প্রতিদিন - প্রতি মুহুর্তে
প্রতি ঘরে
মানুষ তথা হিন্দুরা যাকে
মা বলে ডাকে - সেই দুর্গার
সেই দুর্গা হয়তো বা মেয়ে
হয়তো বোন
হয়তো স্ত্রী
আমার - তোমার
তাই না !
কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপরাধে
আরও বেশী টাকা আনতে না পাওয়ার অপরাধে
দুর্গারা পুড়ে মরে
অনেক পুড়ে যাওয়া দেখতে পারা যায় না
অনেক অন্ধকার আলোর আঁধারে ঢাকা পড়ে যায়
নবরাত্র - রাবণ বধ - দান্ডিয়া নাচ অথবা
সতী নামে
দুর্গারা পুড়ে মরে
একটি পুরুষ তাঁর প্রিয়তমার জন্য
সহ মৃত হয়েছে ?
এই প্রশ্নের উত্তর আছে কি ?

মা ক্ষমতা

ও আমার স্বামী শম্ভু শূলপাণি
দেখছ কি হচ্ছে
ওগো আমায় দিয়ে স্যালুট দেওয়াচ্ছে
রক্ষা কর নাথ আমার - রক্ষা কর।
যার কালির আঁচড় নাই কো পেটে
যে ইংলিশ বলে ভুল বাংলাতে
আবার সব কথাতেই সত্য (!) বলে
বাধায় গণ্ডগোল !
হরি বোল - হরি বোল
হরি হরি বোল।
ও সে সব্ব ঘটে কাঁঠালি কলা
ধারটি করে ফুত্তি মারা
বাঁশ দিয়ে ও চিল্লে বলে
করেছি যে বেশ
ভোলা মহেশ্বর
ও যে
তোমার চেয়ে ও সরেস !!
রক্ষা কর নাথ - রক্ষা কর।

তোর সিপাহী বাবা।

হোয়াটস এ্যপে পাওয়া
অসাধারন লাগল
এক সৈনিকের চিঠি
সারারাত সীমান্ত পাহারার শেষে ক্যাম্পে ফিরেই তোর চিঠিটা হাতে পেলাম। কথা দিয়েছিলাম, পূজোর সময় বাড়ী যাব। বুঝতেই পারছিস যে তা হবার নয়।আমরা এখন যুদ্ধের মুখোমুখি। সারা রাত সীমান্ত জুড়ে গুলিগোলা চলেছে। জানি না, আমার ছোঁড়া গুলিতে ও পাড়ের কোনো সৈনিকের মেয়ে পিতৃহারা হয়েছে কিনা ? সেও তো আমার মতই দাবার বোড়ে ।
তুই লিখেছিস যে, তোর বাবা সীমান্ত প্রহরার জওয়ান শুনে সবাই তোকে প্রশ্ন করে ‘ যুদ্ধ কবে শুরু হবে’। তুই বাড়িতে এসে কাঁদিস । তুই লিখেছিস যে ফেসবুক আর হোয়াটস্যাপ জুড়ে অনেক মানুষ যুদ্ধের জন্য উদগ্রীব । আসলে ওদের কারো বাড়ীর লোকই সৈনিক নয়। ওদের কারো বাড়ীতেই সেনা কনভয় নিয়ে প্রিয়জনের মৃতদেহ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওদের কাছে যুদ্ধ মানে টিভি আর সংবাদপত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শ্ত্রু সেনার মৃত্যু নিয়ে উল্লাস। প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আর আমোদ প্রমোদকে সঙ্গী করেই একঘেয়ে জীবনে কিছু উত্তেজনা। পাহাড়ী পাইনের পাতা ছুঁয়ে যাওয়া গুলি কখন যে কাকে অমরত্ত্ব দান করবে তা আমরা নিজেরাও জানি না। না, যারা যুদ্ধের জন্য উদগ্রীব, সেই নেতা-মন্ত্রী বা অন্ধ দেশভক্ত মানুষ কাউকেই সারা রাত ধরে অসহ্য ঠান্ডায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। ওপরওয়ালার অশ্রাব্য কুকথা আর ওপাড়ের গুলির মাঝে এপারের মাইনে করা সৈনিকরা কেবল ‘জয়হিন্দ’ আর ‘ভারতমাতা কি জয়’ বলে যুদ্ধ করে যাবে, এটাই হোলো দেশপ্রেম ।
জানিস, বেশ কিছুদিন আগে উড়ি ক্যাম্পে যেতে হয়েছিল । পাঁচ পাঁচবার সিক্যুরিটি চেকিং এর পর ঢুকতে পেরেছিলাম। সেখানে কি করে যে এই ঘটনা ঘটল কে জানে । আমার সহকর্মীরা সবাই বিস্মিত । হয়ত কোনো একদিন জানা যাবে আমার আমার সৈনিক ভাইদের মৃত্যু রহস্য।
শুনলাম, তোর মা আর ঠাকুমা, ঠাকুরের কাছে মানত করেছে যাতে যুদ্ধ না হয়। তুইও লিখেছিস যে তুই তোর বাবাকে কফিন বন্দী এক অমর সেনার লাশ হিসেবে দেখতে চাসনা। আমার এক সহযোদ্ধা বলে যে শত্রু গুলিতে মারা গেলে তবেই নাকি অমর হওয়া যায় । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ বা উদ্ধার কাজে গিয়ে মৃত্যু হলে অমরত্ত্ব লাভ হয়না। আমরা হাসিনি। এতাই সত্য। তবুও বলি, আমরা কেউই অমরত্ত্বের প্রত্যাশী নয়। আমাদেরও খুব ইচ্ছে হয় বেঁচে থাকতে।যতদিন আমার এই দেশে ভোট যুদ্ধ থাকবে, ততদিন এভাবেই নকল যুদ্ধের বলি হব আমরা । আমাদের মৃতদেহ নিয়ে চলবে দেশপ্রেমের মহড়া।
কবে কিভাবে বাড়ী যাব জানি না। যাই হোক না কেন বড় হয়েছিস। মা আর ঠাকুমার দায়িত্ব তোর উপর। আদর নিস।

তোর সিপাহী বাবা।
(সংগৃহীত)

পুরানো সেই দিনের কথা

পুজো মানে আমাদের মত চুলে পাক ধরাদের কাছে পুরানো দিনে ফিরে যাওয়া। তখন মহালয়া চারদিন ধরে (এখন অবশ্য ১৪ দিন ধরে) যখন খুশী বাজত না। টেবিল ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে শুতে যাওয়া এবং অবধারিত ভাবে সারা রাত আধো ঘুমে থাকা। তখন কলকাতা "খ" এ মহালয়া একটু পরে শুরু হত। "ক" এর মহালয়া শেষ হওয়ার পর ফুল তুলতে বেরিয়ে পড়া। অনেক বাড়িতে তখনও মহালয়া চলছে। সদ্য ফোটা শিউলি ফুল যখন মাথায় ঝরে পড়ত, কি যে ভালো লাগত তা আমাদের বয়সীরাই একমাত্র বুঝতে পারবে। ফুল তোলার সময় একটা ফুল পায়ের তলায় পড়লে মন খারাপ হয়ে যেত।
তখনকার গড়িয়া আর আজকের গড়িয়ার মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক। গড়িয়াতে তখনও গরুর গাড়ী চলে। সময়ের পাল্টে যাওয়া তখনও গতি নিতে পারেনি আজকের মত। সেই সে দিনে মহালয়ার পরেই আমাদের একমাত্র কাজ ছিল বরদা প্রসাদ স্কুল প্রাঙ্গণে চলে যাওয়া কারণ সেই রাতেই নব দুর্গা মণ্ডপে চলে এসেছে। ওই সকাল টুকু সময় - তারপর মুখ আবার ঢাকা পড়ে যাবে, সামনে কাপড় টানিয়ে চলবে সেই মুহূর্তের কাজ। ওই সময় আমাদের মধ্যে ভীষণ তর্ক হত - গতবারের চেয়ে এবারের দুর্গা কি কি কারণে ভাল / খারাপ, কোন দুর্গার (নটি রূপের মধ্যে) মুখ কত সুন্দর, এই সব নিয়ে। এছাড়া লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ - বাদ যেত না কেউ।
পুজোর চারটে দিন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো (সকাল থেকে দুপুর), ক্যাপ ফাটানো, ক্যাপ ফাটিয়ে যুদ্ধ - কত মজা। বিকেলে ঠাকুর দেখতে বার হওয়া। এত পুজো ছিল না - ছিল না এত জৌলুস কিন্ত আনন্দ ছিল। বিজয়া দশমীর দিন পাড়ার ঠাকুর বরণ হয়ে যাওয়ার পরে চলে যাওয়া রাসবিহারী অ্যাভিনিউ তে। মাঝখান দিয়ে উঁচু ট্রাম লাইন আর তার উপরে হাজার হাজার মানুষ। বুড়ো থেকে বাচ্চা - বাদ নেই কেউ ই। আমরা থাকতাম ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের সামনে দিয়ে কারণ পণ্ডিতিয়া রোডে ছিল আমাদের পৈতৃক বাড়ী। মনে পড়ে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের শোভাযাত্রার কথা। বাচ্চা থেকে বয়স্ক (যারা হাঁটতে পারে) ছেলেদের পোশাক ধুতি ও পাঞ্জাবী, আর মেয়েদের লাল পাড় শাড়ি। ছেলেদের একটা দল - মেয়েদের আর একটি। দল সাজান হত বাচ্চা থেকে বড় - এই ভাবে লাইন করে। সঙ্গে ব্যান্ড থাকত। আর থাকত দুটি বড় ট্রাক যাতে যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারা উঠে পড়ত আবার যারা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছে তারা ভরাট করে দিত সেই জায়গা। কি অসাধারণ যে লাগত যারা না দেখেছে তারা বুঝতে পারবে না। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব একটি রীতি ছিল - সেই রীতি মেনে বিসর্জনের শোভাযাত্রা বার হত।
এত পুরস্কার ছিল না। ছিল শুধু এশিয়ান পেন্টস শারদ সম্মান। আজকে তো মদ কোম্পানিও শারদ সম্মান দেয়। এবার তো দেখলাম এ বি পি আনন্দ পুরস্কারের হরির লুট লাগিয়ে দিয়েছে। পুজোর আবার থিম সং। তাহলে মহালয়া জিনিস টা কি - ওটা বন্ধ করে দিলেই তো হয়। বেস্ট থিম সং এর জন্য আবার পুরস্কার। হয়তো কোনদিন দেখব অমুক মণ্ডপে বেস্ট ফুচকা বিক্রি হয়েছে তার জন্য "বেস্ট ফুচকা মণ্ডপ" পুরস্কার। সেই সময়ে দুর্গা বিসর্জন হত হাজার মানুষের প্রণাম নিয়ে - মানুষের চোখের জলে, যখন মানুষ বাড়ী ফিরত তখন প্রত্যেকের মন বিষণ্ণ।
আজকে কলকাতায় যা চলছে - আগামীর কলকাতায় যা চলবে তাতে আর যাই হোক বিষণ্ণতা থাকে না। পুজো হয়েছে আজ পণ্য - পুঁজ বার হচ্ছে তা থেকে। বারোইয়ারি পুজোর সংজ্ঞা ধরে রাখতে পেরেছে (কিছুটা) বিভিন্ন পাড়ায় হওয়া ছোট পুজো এবং আবাসনের পুজো। তাই পুজো আজ আর কোন আলাদা অর্থ বহন করে আসে না - পুজো আজ এক বিরক্তিকর অভ্যাস, তাই পালিয়ে যাই কলকাতা থেকে। আগে মনে হত পুজোয় কলকাতায় থাকব না - তাকি হয়, আর আজ মনে হয় পুজোয় কলকাতায় থাকব কি করে হয় ?

20 September, 2016

উরিতে ১৭ শহিদের স্মরণে

যুদ্ধ যুদ্ধ এ খেলায়
উলুখাগড়ার ই পরান যায়,
শহিদ শহিদ কদিন চেঁচায়
তারপরেতে ভুলেই যায়।

শহিদের মা কেঁদেই মরে
লাশটাকে সে জড়িয়ে ধরে,
দিনের শেষে রাত্রি এল
মায়ের রাতের শেষ না হল।

দেশপ্রেমের ওই ডঙ্কা বাজে
নতুন করে সৈন্য সাজে
বলতো যারাই ডঙ্কা বাজায়
তারাই কেন যুদ্ধে না যায় ?

যুদ্ধ যুদ্ধ এ খেলায়
উলু খাগড়ার ই প্রাণ কেন যায় ?
অমর শহিদ তোমায় প্রণাম
প্রশ্ন কিন্ত রেখেই গেলাম। শ্রীতোষ উরিতে ১৭ শহিদের স্মরণে ২০/০৯/২০১৬