19 April, 2026

ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি

 

এই বছর ডিউটি না পাওয়া এক ভোট কর্মীর কথা।
বলছি নির্বাচন কমিশনের মাথায় যারা আছেন তাদের। আসলে এই নির্বাচনে আপনারা যুক্তি নিয়ে বড় বেশী মাথা ঘামাচ্ছেন। লজিক্যালি এত লজিক দেখাচ্ছেন দেখাচ্ছেন যে মাথাটা কেমন যেন - - লাগছে।
একই সঙ্গে প্রতিটি ভোট কর্মী কেই বলছি।
হতে পারেন আপনি কোন এক পোলিং অফিসার / প্রিসাইডিং অফিসার অথবা মাইক্রো অবজারভার।
ভোট রঙ্গে আপনি অর্থাৎ ভোট কর্মীরা একটা পাপেট অথবা বাদ্য যন্ত্র। নির্বাচনের ডিউটি যখন আপনি পেলেন অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা - অনিচ্ছা - বয়স - সুবিধা - অসুবিধা ইত্যাদির কোন কিছুকে গুরুত্ব না দিয়ে যখন কোন এক আই এ এস অফিসারের ইচ্ছামত তার অধস্তন আর এক আই এস অফিসার এর সিদ্ধান্ত মত একজন ডব্লিউ বি সি এস অফিসার আপনাকে বাধ্য করলেন গণতন্ত্রের এক মহান প্রহরী হতে, তখন থেকেই আপনি একজন কথা বলা (আসলে না বলা) পুতুল নাচের পুতুল। আপনি বলুন আর না বলুন - প্রতিটি ভোট কর্মীর একই বাস্তব। বাজাও আমারে বাজাও, নাচাও আমারে নাচাও।
আপনি ট্রেনিং নিতে যাবেন, ট্রেনিং নেওয়ার সময় প্রশ্ন করবেন কিন্তু উত্তর পাবেন না। আপনি আইন নিয়ে প্রশ্ন করবেন, এই কাজ টা করার জন্য আপনাকে কোন অ্যাক্ট - কোন রুল বলেছে, উত্তর নেই। হ্যান্ড বুক - ট্রেনিং এর সময় আপনি লজিক্যালি পাবেন না। আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারবেন না "এটা কি লজিক্যাল না ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি"?
গরু - ছাগলের মত আপনাকে গাড়িতে তোলা হবে, একটা বাথরুম থাকা অবস্থায় ১০ / ২০ / ২৫ জন কে একটা খোঁয়াড়ে (থুড়ি ভোট কেন্দ্রে) রাখা হবে, আপনার জিজ্ঞাসা করার কোন অধিকারই নেই "এটা কি লজিক্যাল না ইললজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি"?
যদি এখনকার দিনে প্রশ্ন করেন (কোন দিন নির্বাচন ডিউটি না করা দ্বেষ প্রেমিকদের দল সোচ্চারে চিল্লাবে যে চিৎকার চিল্লানোসোরাসদের হার মানিয়ে দেবে) এরা দেশদ্রোহী। টাকা - পয়সা অথবা ভিসা না করিয়ে দিয়েই ওরা পাকিস্থানে চলে যাওয়ার নিদান দেবে।
ইভিএম জমা দেওয়ার শেষে আপনি পুড়ে যাওয়া দেশলাই কাঠি অথবা সিগারেটের ফিল্টার টিপস অথবা গুটকার ছেঁড়া প্যাকেট।
প্রথম ভোটের ডিউটি ১৯৯৬ সালে। তখন বোলপুরে পোস্টেড। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে।
তাহলে আজ কেন লিখলাম?
এইবারই প্রথম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এল কিন্তু
ভোট কর্মীরা লজিক্যাল / লজিস্টিক্যাল মিনিমাম কিছু সুবিধা পাবেন কি?
২৪ এবং ২৯ তারিখ রাত্রে ভোট কর্মীরা উত্তর পাবেন আশা রাখি।
আশা করি, নির্বাচন কমিশন ২৪ এবং ২৯ তারিখ রাত্রে ডি সি আর সি তে ই ভি এম সহ সব কাগজ পত্র জমা দেওয়ার শেষে ভোট কর্মীদের (যাঁরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসাবে নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন) প্রতি সামান্য একটু লজিক্যাল হবেন।
বি দ্রঃ
প্রথম বার ভোটের ডিউটি করার পর, বোলপুর চিত্রা সিনেমার উল্টোদিকের মাঠ থেকে (ওটাই ছিল ডি সি আর সি) ৫ কিমি পায়ে হেঁটে সিয়ান এ ফিরেছিলাম (হাঁটা শুরু করেছিলাম রাত সাড়ে এগারোটায়)

No comments:

Post a Comment